আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের আবহ এখনও কাটেনি। এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেলা ১১টা নাগাদ তাঁর আসার কথা। তার আগে থেকেই গ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে মৃত টগর বেজের বাড়ির আশপাশে চলছে কড়া নজরদারি। পুলিশ কুকুর ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি। নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। গোটা এলাকা ঘিরে সতর্ক রয়েছেন পুলিশকর্মীরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃত পাঁচটি পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামের একই পরিবারের সদস্য টগর বেজ, সন্দীপ বেজের মৃত্যু হয়েছিল। সম্পর্কে টগর ও সন্দীপ মা ও ছেলে। আহত হয়েছিল টগর বেজের মেয়ে আগমনী বেজও।
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বীরপুর গ্রামে এখন নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী।
উল্লেখ্য, এদিকে উত্তর কলকাতার চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। এবার ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখাকে। মণ্ডপে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপে লাগানো মোট ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৩টি থেকে ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের উৎসও খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মণ্ডপে মাইকে কী ঘোষণা করা হয়েছিল, কারা সেই ঘোষণা করেছিলেন এবং তার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে দুর্ঘটনার সময়কাল মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ঘোষণার সময় এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়।
প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, হঠাৎ বৃষ্টির জেরে মণ্ডপের বাইরে বেরোনোর পথের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে পড়েছিলেন। ফলে বেরোনোর পথ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকায় পুলিশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জরুরি নির্গমনপথ, ভিআইপিদের বেরনোর পথ-সহ মোট তিনটি রাস্তা দিয়ে মানুষকে বাইরে বেরিয়ে যেতে। তবে এই ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
