লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলু চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা। বিশেষ করে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে আলু উৎপাদনে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আলু চাষের শুরু থেকেই সার ও কীটনাশক কেনায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে খরচ বেড়েছে। এতে আলু রোপণ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত মোট ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
কৃষকদের ভাষ্য, সমতল এলাকার তুলনায় চরাঞ্চলের জমিতে আলু চাষে সেচ ও সার ব্যবহারের প্রয়োজন বেশি হয়। ফলে এসব জমিতে উৎপাদন খরচও তুলনামূলক বেশি পড়ে। প্রতি বিঘা জমিতে আলু উৎপাদনের জন্য বীজ, সার, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে সার ও সেচের বাড়তি খরচ তাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের আলুচাষি মহুবার বলেন, “সার ও সেচের যে খরচ, তাতে এবার আলু চাষ করে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। গত বছরও আলুর ন্যায্যমূল্য পাইনি। এবার উৎপাদন খরচ আরও বেশি। শেষ পর্যন্ত বিক্রির সময় ভালো দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে।”
কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলুর বাজারদর না বাড়লে ফসল বিক্রি করে খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ঋণ ও ধারদেনা করে চাষাবাদ করা কৃষকদের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেক কৃষক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আলুর উৎপাদন খরচ কমাতে সার ও কীটনাশকের বাজারদর তদারকি, সেচব্যবস্থায় কৃষকদের সহায়তা এবং প্রান্তিক চাষিদের জন্য কার্যকর কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মৌসুমে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।
কৃষকদের প্রত্যাশা, সময়োপযোগী সরকারি উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে উৎপাদন খরচের চাপ কিছুটা কমবে। এতে আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বজায় থাকার পাশাপাশি সম্ভাব্য লোকসানের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
