রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাজেকে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে আতঙ্ক কাটেনি। সাজেকের সড়কে স্থানীয় দুই সংগঠনের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের রিসোর্ট-কটেজগেুলোর কক্ষ বুকিং বাতিল করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে গতকাল শুক্রবার কটেজ মালিক-ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সাজেকের পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান আমাদের সময়কে বলেন, সাজেকের পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনার পর সাজেক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। মানুষের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। ভয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ কমবেশি আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবিতে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এ কর্মসূচিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর, ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়েছে।
এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) ‘সশস্ত্র’ সদস্যদের বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে গত বুধবার বিকালে অবরোধ ঘোষণা করে সংগঠন দুটি।
পরে অবরোধের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উজো বাজার এলাকায় পাহাড়ের এক ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি হয়।
বাঘাই হাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম জানান, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন
চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সাজেক সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছেন। ফলে কোনো গাড়ি চলাচল করছে না। এ অবস্থায় কোনো পর্যটকও সাজেক যাচ্ছেন না।
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে সাজেকের পর্যটন ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, সাজেকে বর্তমানে পর্যটক নেই। আগের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে।
সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে থেকে শুরু করে ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের রিসোর্টে শতভাগ কক্ষ বুকিং ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যেসব বুকিং রয়েছে সেগুলোও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। আমরা কর্মসূচি সফলভাবে চালিয়ে নিচ্ছি। উজোবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাজেক সড়কে সারাদিন যানবাহন চলাচল করেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় থানায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
