জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আটজন হেভিওয়েট আসামি। যাদের মধ্যে সাতজন সাবেক মন্ত্রী, একজন উপদেষ্টা। তাদের কেউ কারাগারে দেড় বছর পার করেছেন, কারও বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগই দাখিল হয়নি। বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে দিন গুনছেন তারা।
এদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের অপেক্ষা চলছে, আর অভিযোগ দাখিল হওয়া দুজনের বিচারিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। আসামিদের দীর্ঘ কারাবাসের পরও বিচার শুরু না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আসামিপক্ষ। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আইন অনুযায়ীই এগোচ্ছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরপর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম এবং হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিচার শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭০টি মামলায় ৫৫৮ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪টি মামলা তদন্তাধীন এবং ২৬টি মামলার বিচার চলছে। এরই মধ্যে সাতটি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন পলাতক।
অন্যদিকে, প্রায় ৬০০টি অভিযোগ দায়েরের মধ্যে ৪৪টি তদন্তাধীন এবং ২৬টি বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনা ও আরও ৪৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
‘হেভিওয়েট’ আসামিদের অবস্থা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার থাকা আওয়ামী লীগের আট হেভিওয়েট আসামি হলেন—আমির হোসেন আমু, শাহজাহান খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, গোলাম দস্তগীর গাজী, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, ডা. দীপু মনি ও কামাল আহমেদ মজুমদার।
এর মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শাহজাহান খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। অন্যদিকে ডা. দীপু মনি ও কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলেও তাদের বিচারিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
এক বছরের বেশি সময় ধরে গ্রেফতার থাকার পরও ছয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট করে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দাখিল না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকা এবং বিচার শুরু না হওয়া আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কবে গ্রেফতার হন
সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পশ্চিম ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ছিলেন।
সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাককে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর নিউ ইস্কাটন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীকে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গুলশান থেকে ডিবি গ্রেফতার করে। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খানকে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)। গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডিবি গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজীকে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় করা অন্তত আটটি হত্যা মামলার আসামি তিনি।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় আমির হোসেন আমু, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, ফারুক খান, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ও শাহজাহান খান নিজ নিজ অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে পরামর্শ, সহযোগিতা, সমর্থন ও উসকানি দিয়েছেন।
তারা ১৪ দলীয় জোটের দুটি বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমির হোসেন আমু ছিলেন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। প্রসিকিউশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে ছয় নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
বিনা বিচারে আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন
আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, দুই বছর ধরে বিচার ছাড়া কাউকে আটক রাখা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। জামিনের সুযোগ থাকার পরও তা দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জামিন চেয়ে আদালতের সময় নষ্ট করা উচিত হবে কি না, সেটিও তাদের ভাবতে হবে। আদালতের দুয়ার খোলা থাকলেও ন্যায়বিচারের পথ বন্ধ। আসামিকে বিনা বিচারে আটক রাখার চেয়ে দ্রুত বিচার শুরু করা উচিত।
ফৌজদারি অপরাধ আইনে বিশেষ পারদর্শী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, একজন মানুষকে বিনা বিচারে অগণিত সময় ধরে আটকে রাখা যায় না। এক-দেড় বছর কেন থাকবে, সেটিও প্রশ্ন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। যদি থাকে, তাহলে ২০২৪ সালে দায়ের করা এজাহারে কেন এখনো বিচার শুরু হচ্ছে না? আর বিচার শুরু না হলে আইন অনুযায়ী আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। সাংবিধানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন ভিন্ন হলেও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না, এ বিষয়টি প্রসিকিউশনের খেয়াল রাখতে হবে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিনা বিচারে আটক রাখা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল এবং তা শেষ হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসাইন তামিম বলেন, আমির হোসেন আমু, শাহজাহান খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, গোলাম দস্তগীর গাজী ও তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। প্রধান প্রসিকিউটর ফিরে এলে তা দাখিল করা হতে পারে। এরপর বিচার শুরু হবে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
তিন আসামির জামিন আবেদন
তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, ডা. দীপু মনি ও কামাল আহমেদ মজুমদার জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন। তাদের আইনজীবীরা বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তারা কারাগারে রয়েছেন, অথচ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। এ কারণে তারা জামিন চেয়েছেন।
তৌফিক-ই-এলাহীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, ট্রাইব্যুনাল যে কোনো পর্যায়ে জামিন দিতে পারেন। তদন্ত এক বছরের মধ্যে শেষ না হলে আইন অনুযায়ী জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার মক্কেল আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন না, শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তার কোনো ধরনের উসকানি বা ভূমিকার প্রমাণ হিসেবে কোনো ছবি, অডিও বা ভিডিও নেই। তিনি ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না।
কামাল আহমেদ মজুমদারের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, তার মক্কেল দেড় বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও শয্যাশায়ী। এ কারণে জামিন চাওয়া হয়েছে।
ডা. দীপু মনির আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী তারিখে এই তিন আসামির বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের জামিনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
কর্নেল (অব.) ফারুক খানও জামিন চেয়েছেন। তবে তার আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আমির হোসেন আমু, ড. আবদুর রাজ্জাক ও শাহজাহান খান এখনো জামিনের আবেদন করেননি।
আইনে কী আছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৭(ডি) ধারায় অযথা বিলম্ব ছাড়াই বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউরের ৩৪(৩) বিধিতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল যে কোনো পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিতে পারেন।
এ ছাড়া ৯(৫) বিধিতে বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে লিখিত কারণ দেখিয়ে তদন্তের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো এবং ওই সময় পর্যন্ত আসামিকে আটক রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানার জন্য ট্রাইব্যুনাল অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন। এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে।
একেক মামলায় সময় লাগে ৭-৮ মাস
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসাইন তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সময় দেশের পরিস্থিতি ছিল নাজুক। শুরুতে টিনশেড ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরে সংস্কার করা হয়। এরই মধ্যে সাতটি মামলার রায় হয়েছে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে।
তিনি বলেন, একটি মামলা শেষ করতে সাত থেকে আট মাস সময় লাগে। তদন্তে এক বছর, দেড় বছর কিংবা ছয়-সাত মাসও লাগতে পারে। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দ্রুত বিচার করতে চাইছে। আবার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া অনেক ধীরগতির। তবে প্রসিকিউশন আইন অনুযায়ী যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকুই নিচ্ছে।
পুরোনো ট্রাইব্যুনালের তুলনা
পুরোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠন করা হয়েছিল। প্রথম মামলায় ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রথম রায় হয় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলাটি শেষ করতে সময় লেগেছিল এক মাস ২১ দিন।
সাত মামলার রায়, সামনে আরও কয়েকটি
এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামানসহ মোট ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন পলাতক।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। রায়ে আসামিদের বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে। সব আসামির সাজা একত্র করলে ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আসে।
সাতটি মামলার পর মাহবুবুল আলম হানিফের মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এ মামলার চার আসামিই পলাতক।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান।
যাত্রাবাড়ী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার শিশু সন্তান তাইম হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে।
আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়ানো ক্রসফায়ারে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
কামরুল ইসলাম ও জাসদ নেতা রাশেদ খান মেননের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
মোহাম্মদপুরে হত্যার মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
