আগেকার দিনে মানুষ অসুস্থ হলে পশ্চিমে যেতেন হাওয়া বদল করতে। মধুপুর, ঘাটশিলার আবহাওয়া অনেকটা সুস্থ করে দিত তাঁদের। আজকালকার দিনে কেউ আর হাওয়া বদলের মতো প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সেভাবে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু সেই এক থেরাপি যে এখনও বেশ কার্যকর, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ চিনের ৬৭ বছরের ক্যানসার আক্রান্ত মহিলা। ক্যানসারের চিকিৎসায় নয়, জীবনের সমস্ত সঞ্চয় তিনি খরচ করলেন আন্টার্কটিকার সফরে। আর তাতেই ম্যাজিক! ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আপাতত নেটদুনিয়ায় তাঁর এই আরোগ্যের কাহিনি ভাইরাল।
শুনে ভাবছেন তো এও কি সত্যি? হ্যাঁ, খাঁটি সত্যি। চিনের ৬৭ বছরের ওয়াং ইং একজন চিত্রগ্রাহক। মূলত জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ছবি তোলেন। তবে জীবনের কিছুটা সময় তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কয়েকবছর আগে অবসর গ্রহণের পর পুরো সময়টাই দেন ছবি তুলতে। বেশ আনন্দেই ছিলেন ওয়াং। কিন্তু একটা সময় জানতে পারেন, থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। শুনে মুষড়ে পড়েন। ভাবেন, ছবি তোলা আর হল না বুঝি! সুন্দর পৃথিবীর অনেকটাই তাঁর লেন্সে অধরা থেকে গেল। আর এই ভাবনাই তাঁকে চালিত করে অন্য পথে। ওয়াং ঠিক করেন, ক্যানসারের চিকিৎসায় তিনি ব্যয় করবেন না। বরং ক্ষণস্থায়ী জীবনে যে কটা দিন বাকি, তিনি চুটিয়ে উপভোগ করবেন। এই ভেবে ওয়াং ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আন্টার্কটিকার উদ্দেশে।
এক, দুমাস নয়, কয়েক বছর তিনি সেখানে ছিলেন। প্রাণ ভরে পেঙ্গুইনের ছবি আর ভিডিও তোলেন ওয়াং। আন্টার্কটিকায় বসবসকারী ১২০০টি আলাদা প্রজাতির পেঙ্গুইন ও বিভিন্ন পাখির ছবি সযত্নে তোলা রয়েছে তাঁর ক্যামেরায়। ওয়াংয়ের তোলা সেসব ছবি একমাসে দেড় ইউয়ান দাম ওঠে। একটি ছবি তো রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি মা পেঙ্গুইন বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে। আন্টার্কটিকার এসব ছবি এত প্রশংসিত হওয়ার পর ওয়াং বলেন, “ভেবেছিলাম যদি মরতেই হয়, তাহলে অনেক অনেক দূরে যেন মৃত্যু হয়। আমি একদম চাইনি আমার অস্ত্রোপচার হোক।” তবে তাঁর তোলা ছবি এত দামি হওয়ার চেয়েও বড় সুখবর, ওয়াং ফিরে আসার পর ডাক্তারি পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর থাইরয়েড গ্রন্থিতে হওয়া টিউমার, যা ক্যানসারে পরিণত হয়েছিল, তার আকার খানিকটা ছোট হয়ে গিয়েছে! অর্থাৎ তিনি সুস্থতার পথে এগিয়ে গিয়েছেন বেশ কয়েকধাপ। এইই তো শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
