নেই দোকান ও গুদাম, থাকেন প্রবাসে তবুও তারা সারের ডিলার
ইমাম হোসেন খাঁন, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী)
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে ৮জনকে সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। ৮ জনের মধ্যে কারও কারও নেই গুদাম, নেই দোকান, কেউ থাকতেন প্রবাসে, কেউ করেন চট্রগ্রাম শহরে গ্যাসের ব্যবসা। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে চুড়ান্ত করা এ ডিলাররা হলেন, সিরাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগরের হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরী হাট এলাকার সালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু সুফিয়ান। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাস থেকে কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন। তার কোনো সারের দোকান বা গুদাম নেই।
চরহাজারী ইউনিয়নের ডিলার নজরুল স্টোরের মালিক নজরুল ইসলাম। তিনি এলাকায় মৌসুমী মাটি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার কোনো সারের দোকান নেই। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার ফাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম। তার কোনো সারের দোকান ও গুদাম নেই। চরফকিরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব হাসান মাহমুদ শুভ তার মালিকানাধীন হাসান ট্রেডার্সের নামে ডিলারশীপ নিয়েছেন। তারও কোনো সার দোকান নেই।
রামপুর ইউনিয়নের ডিলার পেয়েছেন মোবাইল, কাপড়, জুতা, কসমেটিকস ও হার্ডওয়ার দোকানদার এনাম ট্রেডার্সের মালিক মো. এনাম। মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলার পেয়েছেন চট্রগ্রামের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাবসায়ী ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক মো. মাহবুব উল্যাহ সায়েম এবং চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা হক এন্ড ব্রাদার্সের মালিক আমিনুল হক মাসুদ। তারও কোনা সারের দোকান ও গুদাম নেই। অভিযোগ ওঠেছে, ওইসব সার ডিলারগুলোর নামে কোন দোকান ও প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদে টাকা দিয়ে অধিকাংশই ভূয়া ট্রেড লাইসেন্স করে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে চরপার্বতীর ডিলার আবু সুফিয়ান বলেন, আমার দোকান নেই, চাচাতো ভাইয়ের সারের দোকান আছে, ওখানে আমি বসি। চরহাজারীর ডিলার নজরুল নিশ্চিত করেন তিনি মুদি দোকানী, চরফকিরার ডিলার হাসান মাহমুদ শুভ জানান ডিলারশীপ পেয়েছেন এখন দোকান নেবেন। রামপুর ইউনিয়নের ডিলার মো. এনাম জানান, তার কোন সার দোকান নেই। মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলার মো. মাহবুব উল্যাহ সায়েম জানান তিনি চট্রগ্রাম। তিনি সারের ডিলারশীপ নিয়েছেন, দোকান চালু করবেন। চরএলাহী ইউনিয়নের ডিলার আমিনুল হক মাসুদ দাবি করেন, তাদের আগে সারের দোকান ছিল।
এদিকে গত সোমবার উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভি বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আবদুস সালাম তার ইউনিয়নে সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে সার ডিলার নিয়োগ করায় তা বাতিলের দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিয়োগকৃত ডিলার চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করার সুবাদে চট্টগ্রামেই বসবাস করেন। এলাকায় তার কোনো দোকান ঘর, গুদাম নেই। অভিযোগকারী একজন প্রকৃত সার ব্যবসায়ী, তার দোকানও আছে। তিনি দু’বছরের অধিক সময় সার, বীজ, কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। ডিলারের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও তিনি ডিলারশীপ না পেয়ে ভূয়া, অনুপযুক্তকে ডিলার করা হয়েছে বলে তা বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজ এন্ড ব্রাদার্সের মালিক সিরাজ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত খুচরা সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করে আসছি। কিন্তু ডিলারশীপ নেয়ার জন্য আবেদন করলেও আমার নাম অজ্ঞাত কারণে লিষ্টে নাই। আর যাদের কোন প্রতিষ্ঠানই নেই, তারাই সারের ডিলারশীপ পেল!
এবিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি নতুন এসেছি। ডিলার নিয়োগ যাচাই-বাছাই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে।

