শাদাব খানের বীরত্বে অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আজ তারা ১ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। লাহোরে আজ প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিক শিবির। মাত্র ৫২ রানেই প্রথম সারির ৪ ব্যাটার হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। সেখান থেকেই এক পর্যায়ে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেললে ইংল্যান্ডের জয়টা কেবলই সময়ের ব্যাপার মনে হয়েছিল। কিন্তু শাদাব খানের বীরত্বে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
বল বাকি ৯৭। রান দরকার ৮৮। উইকেটে তখনো শেষ স্বীকৃত ব্যাটার শাদাব খান। পাকিস্তানের উইকেটও বাকি কেবল একটা। কিন্তু শাদাব খান যে হাল ছাড়ার পাত্র নন। সুযোগ বুঝে ইংল্যান্ডের বোলারদের চার-ছক্কা মেরে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। চাপ সামলে স্বাগতিকদের উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসিয়েই পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলেন শাদাব খান।
ম্যাচ অবশ্য শেষ হয়ে যেতে পারত ৪৪.২ ওভারেই। অ্যাটকিনসনের বল শাদাবের প্যাডে লাগতেই আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত এলবিডব্লুর আঙুল তুলে দেন। কিন্তু রিভিউ নিতেই দেখা যায়, বল শাদাবের ব্যাটের কানা ছুঁয়েছে। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৯ উইকেটে ২২১ রান। শাদাবের রান তখন ৯৭। বেঁচে যাওয়ার পর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তুলির শেষ আচড় দিয়েছেন রউফ। হেনরি ক্রোকোম্বোকে ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে চার মেরে রউফ জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন।
শাদাব-হারিস রউফের শেষ উইকেটে ৮৯ রানের জুটিতে ভেঙেছে ৫১ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড। দশম উইকেটে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড এখন পাকিস্তানের এই দুই ব্যাটারের।এর আগে ১৯৭৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অ্যান্ডি রবার্টস-ডেরেক মারে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন। এবার শাদাব-রউফের ৮৯ রানের রেকর্ড জুটিতে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তান।
২৪২ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩১ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ফখর জামান, বাবর আজম, সাইম আইয়ুব দ্রুত বিদায় নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ফখর, বাবর দুজনই ১০ রান করে আউট হয়েছেন। দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসন। সাইম আইয়ুব এক অঙ্কের ঘরে (৬) আউট হয়েছেন। তাকে ফিরিয়েছেন আরেক পেসার হেনরি ক্রোকোম্বে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ওয়ানডে দিয়েই ক্রোকোম্বের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে।
চাপে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন সালমান আলী আগা ও সাদ বাইগ। তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন। টি-টোয়েন্টি মেজাজে চলতে থাকা এই জুটি ভাঙেন জেমি ওভারটন। ১২তম ওভারের শেষ বলে ওভারটনকে কাট করতে গিয়ে সাদ ক্যাচ তুলে দেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা জ্যাকসের হাতে।
২২ বলে ৭ চারে ৩২ রান করেন সাদ। তিনি ফেরায় পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ১২ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৪ রান। মুহূর্তেই স্বাগতিকেরা ৩৩.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৪ রানে পরিণত হয়। ৩৪তম ওভারের পঞ্চম বলে রাজাউল্লাকে (৮) বোল্ড করে জ্যাকস ইংল্যান্ডের জয় এক রকম নিশ্চিত করে ফেলেন জ্যাকস। কিন্তু গলার কাঁটা হয়ে বিঁধেছিলেন শাদাব খান।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তান খেলেছে গোলাপি জার্সি পরে। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া ইংল্যান্ড ৯.১ ওভারে ৪ উইকেটে ৫২ রানে পরিণত হয়। সাময়িক চাপে পড়া ইংলিশরা উদ্ধার হয় স্যাম কারান-বেন ডাকেটের পঞ্চম উইকেটে ১০৫ বলে ৯৩ রানের জুটিতে।
পঞ্চম উইকেটে ১০০ ছুঁইছুঁই জুটির পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। সফরকারীরা অলআউট হয়েছে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন ডাকেট। ১১১ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ৮.৪ ওভারে ৪৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
