যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিট মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিনেতার প্রতিনিধি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তার জনসংযোগ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আরজে মিটের প্রকৃত নাম রয় ফ্র্যাঙ্ক মিট। সেরিব্রাল পালসি নিয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার ‘ফ্লিন’ হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এএমসিতে প্রচারিত সিরিজটি পাঁচ মৌসুমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সিরিজটিতে তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন মিটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই খবর তাকে গভীর হতাশায় ডুবিয়েছে।
ক্র্যানস্টন বলেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মিটের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিজটির পাইলট পর্বের শুটিং শুরুর সময় মিট ছিলেন অনভিজ্ঞ। তবে ধীরে ধীরে তিনি একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠেছিলেন।
মিটের প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অধিকার নিয়ে কাজেরও প্রশংসা করেন ক্র্যানস্টন। তিনি বলেন, মিট কখনো নিজের সেরিব্রাল পালসিকে কোনো কিছুর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেননি। তার মধ্যে থাকা সম্ভাবনা ও প্রতিভার এমন পরিণতি বড় ক্ষতি।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ জেসি পিংকম্যান চরিত্রে অভিনয় করা অ্যারন পলও শোক প্রকাশ করেছেন। হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বন্ধুর মৃত্যুতে তিনি বাকরুদ্ধ ও হৃদয়ভাঙা অবস্থায় আছেন।
অ্যারন পল লেখেন, আরজে, বন্ধু, তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে খুব মিস করব। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন, প্রত্যেক মানুষই ভালোবাসার যোগ্য এবং কেউ একা নন।
সিরিজটিতে মিটের চাচা হ্যাঙ্ক শ্রেডারের চরিত্রে অভিনয় করা ডিন নরিস বলেন, মিট তার টেলিভিশনের ছেলের চরিত্রে অভিনয় না করলেও সেটে তরুণ অভিনেতা হিসেবে তার প্রতি সব সময় খেয়াল রাখতেন। তিনি মিটকে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় বেড়ে ওঠা মিট ২০০৫ সালে ছোট বোনের অভিনয়জীবনে সহায়তা করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান। সেখানেই তার অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর আগে তিনি মেথামফেটামিনবিরোধী একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার, অন্তর্ভুক্তি এবং বিনোদনজগতে তাঁদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন মিট। তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজ ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য মিট ফাউন্ডেশন’।
২০২১ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিট বলেছিলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়তে দেখা ইতিবাচক। তবে বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে অনেক সময় ছোট ছোট অগ্রগতি ও বিচ্ছিন্ন সাফল্যের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আসে।
‘ব্রেকিং ব্যাড’ ছাড়াও ‘হান্না মন্টানা’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ ও ‘ওয়েস্টহ্যাম্পটন’-এর মতো প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তিনি। চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ ছিল তার সাম্প্রতিক কাজগুলোর একটি।
যে আই
