পুকুরের ওপর প্যান্ডেল, আনন্দময়ীর এক যুগ পূর্তিতে বিশেষ আয়োজন
প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর · ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের বাসুদেব বাড়ি এলাকায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে এবার বাড়তি আয়োজন আনন্দময়ী পূজামণ্ডপে। পুকুরের ওপর প্যান্ডেল তৈরি করে পূজার আয়োজন করা এই মণ্ডপের এবার এক যুগ পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে পূজা উদ্যাপন কমিটি। পূজার পাঁচ দিন দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতিবছর আনন্দময়ী পূজামণ্ডপ দেখতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসেন। এবার এক যুগ পূর্তির আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের সমাগম আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলার অন্য পূজামণ্ডপগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ করে এখন রং, পোশাক ও অলংকার দিয়ে সাজানো হচ্ছে দেবী দুর্গাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা ও মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগরেরা।
জগন্নাথপুরের বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির স্থান ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমায় রং লাগানো হচ্ছে, কোথাও চলছে অলংকরণের কাজ। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো তৈরি, মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়া থেকে শুরু করে রং ও সাজসজ্জা প্রতিটি ধাপ শেষ করতে কারিগরদের দীর্ঘ সময় দিতে হয়েছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
আনন্দময়ী পূজামণ্ডপের প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। সময়মতো সব কাজ শেষ করতে তাঁরা ব্যস্ত রয়েছেন।
আনন্দময়ী পূজামণ্ডপের সভাপতি রিংকু ভট্টাচার্য বলেন, আনন্দময়ী পূজামণ্ডপের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে এবার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষের দিকে।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্য গোবিন্দ দেব বলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভায় পাঁচটি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে আনন্দময়ী পূজামণ্ডপের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে বড় আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছর এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
জগন্নাথপুর জগন্নাথ জিউর কেন্দ্রীয় মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি বিভাস দেব বলেন, পূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার জগন্নাথপুর উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
