উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলে প্রায়শই জনবসতিতে হানা দেয় বন্য শ্বাপদ। রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে কখনও পোষা কুকুরকে আক্রমণ, আবার কখনও বাড়ির বাসিন্দাদের উপর হামলা। তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে নৈনিতাল জেলার বেতালঘাট ব্লকের তাল্লি সেটি গ্রামে। এক বৃদ্ধার বাড়িতে হানা দেয় একটি বড়সড় চিতাবাঘ। উপস্থিতবুদ্ধির জেরে প্রাণ বাঁচল বৃদ্ধার। চিতাবাঘটিকে উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, রবিবার ভোরে নৈনিতাল জেলার প্রত্যন্ত এলাকা বেতালঘাট ব্লকের তাল্লি সেটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্তী দেবীর বাড়িতে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। জানা গিয়েছে চিতাবাঘটি রাত ৩টে নাগাদ বাড়িতে ঢুকে পাশের একটি ঘরে শুয়ে পড়ে। বাড়িতে একা থাকা জয়ন্তী দেবী পাশের ঘরে কিছুর নড়াচড়া টের পান। নিঃশব্দে উঠে পাশের ঘরের দিকে তাকাতেই হৃৎকম্প বেড়ে যায় তাঁর। চিতাবাঘটিকে শুয়ে থাকতে দেখেও মাথা ঠান্ডা রাখেন বৃদ্ধা। সাক্ষাৎ যমদূতটিকে দেখে ভয় পেয়েও সাহস সঞ্চয় করে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। চিতাবাঘটি ভিতরে আটকে পড়ে। এর পর চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন জয়ন্তী দেবী।
তাঁর চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। রবিবার সকালে বন বিভাগের একটি দল জয়ন্তী দেবীর বাড়িতে আসে। চিতাবাঘটিকে চেতনানাশক দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। সেই উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘কুমায়ুন জাগরণ’ নামের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। বৃদ্ধার সাহসিকতার প্রশংসা করে গ্রামবাসীরা জানান, ঘরের মধ্যে চিতাবাঘটিকে আটকে রাখার মতো সাহস দেখিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, এলাকায় চিতাবাঘের উপদ্রব রুখতে বন দফতরের কাছে খাঁচা বন্দোবস্ত এবং নিয়মিত টহলদারির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
