চোরবাগানের প্রতিমা। ছবি: eisamay
Published on
:
2 min read
সরু রাস্তা। দু’ধারে বাড়ি। মাঝখান দিয়ে পর পর প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এলাকার লোকজন হাতে গোনা। বেশির ভাগই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কিংবা বাড়ির জানলা দিয়ে উঁকি মারছেন। নেই ঢাকের বাদ্যি, নেই উৎসবের আবহ। শনিবার ত্রয়োদশীর দুপুরে চোরবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা এ ভাবেই চলল নিরঞ্জনের পথে।
প্রথম সপ্তমীর দিন এই চোরবাগান সর্বজনীনেই পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন বেঘোরে প্রাণ হারান। সকলেই এসেছিলেন ঠাকুর দেখতে। সেই চরম বিশৃঙ্খলায় আহত হন ২৫ জনের কাছাকাছি। সেই ক্ষত বুকে নিয়েই এ দিন চোরবাগানবাসী বিদায় জানালেন মাকে।
এক নজরে
প্রথম সপ্তমীর দিন ১৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ক্ষত বুকে নিয়ে শনিবার ত্রয়োদশীর দুপুরে চোরবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
চিরাচরিত ঢাকের বাদ্যি, সিঁদুর খেলার আনন্দ বাদ দিয়ে একেবারে স্তব্ধ ও বিষাদময় পরিবেশে মা’কে বিদায় জানানো হয়।
সংকীর্ণ রাস্তা ও মণ্ডপের গঠন অনুযায়ী প্যান্ডেলের একাংশ কেটে সাবধানে প্রতিমা বাইরে বের করা হয়।
কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) ও গিরিশ পার্ক থানার বিপুল পুলিশকর্মীদের কড়া নজরদারিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুজো কমিটির অব্যবস্থাপনা এবং বহিরাগত ভিড় নিয়ন্ত্রণের অভাবকে দায়ী করে শৈশবের চেনা পুজোর এই পরিণতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এ দিন প্যান্ডেলের একাংশ কেটে বের করে আনা হয় প্রতিমা। মণ্ডপের সামনে প্রতিমা রাখা হয় কিছুক্ষণ। পরানো হয় মালা। দেখা যায়নি সিঁদুর খেলার আনন্দ। হাত জোর করে মাকে প্রণামটুকু সেরেছেন তাঁরা। এর পরেই কড়া নিরাপত্তায় প্রতিমা নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান লোকজন।
বহু বছরের পুরোনো এই পুজো। ভিড়ের ছবিও এলাকাবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু উৎসবে এমন বিষাদ দেখেননি তাঁরা। এলাকারই এক বাসিন্দার কথায়, ‘গিরিশ পার্ক, মহাত্মা গান্ধী সব মেট্রো স্টেশন দিয়েই লোক ঢুকছে। প্রতি বছরই এখানে এ রকম ভিড় হয়। কিন্তু এ বার মিসম্যানেজমেন্ট হয়েছে। বৃষ্টি হয়েছে। প্যান্ডেলে একদল ঢুকতে চাইছিল, একদল বেরোতে চাইছিল না। সব নিয়ে এই অবস্থা। আমরা পাড়ার লোক। অথচ আমাদের বলেও না কিছুতে। পাড়ার লোকজনকেই ঢুকতে দেওয়া হয় না। এ সবই তো চলছে। সবাইকে নিয়ে চলা উচিত। আসলে এই গলিতে আমাদের শৈশব কেটেছে। এই ছবি দেখলে আমাদের কষ্ট লাগে।’
পদপিষ্টের ঘটনার তদন্ত করছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমতি নিয়েই মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বার করা হয়। গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। বিরাট টিম, বিরাট নজরদারিতেই নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে চলে প্রতিমা।