সংগঠনের বয়স ১৪ বছর, তাই দুর্গাপ্রতিমার উচ্চতাও ১৪ ফুট। ব্যতিক্রমী এই পরিকল্পনাকে ঘিরে শারদীয় দুর্গাপূজায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। উদ্যোগী যুব সংঘের (উযুস) আয়োজনে নির্মিত ১৪ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। আয়োজকদের দাবি, এটি ময়মনসিংহ জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা।
২০১২ সালের ১ নভেম্বর ৭১ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সামাজিক সংগঠন উদ্যোগী যুব সংঘ। পরের বছর, ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিত দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার প্রতিমার উচ্চতা ১৪ ফুট নির্ধারণ করেন আয়োজকেরা। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা ও সার্বিক আয়োজনেও রাখা হয়েছে বিশেষত্ব।
আয়োজকেরা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তাঁদের মণ্ডপেই তৈরি করা হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ ও পাটের রশি। নির্মাণকাজ শেষ করতে টানা ১২ দিন সময় নিয়েছেন নেত্রকোনার প্রতিমাশিল্পী তপন পাল। প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী ফুফার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। তাঁর কাছে প্রতিমা নির্মাণ শুধু জীবিকা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখারও একটি মাধ্যম।
কারিগর তপন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ধৈর্য ও মনোযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে যত্ন নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিমার আকার যত বড় হয়, স্বাভাবিকভাবেই পরিশ্রমও তত বেড়ে যায়।
উযুসের সভাপতি সুদীপ্ত সাহা অমিত বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা পূজায় নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় গৌড় বলেন, বড় প্রতিমাকে কেন্দ্র করে এবারের পূজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ১৩০। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য খিচুড়ি ও প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বণিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৪ ফুটের প্রতিমার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। প্রতিমাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
দর্শনার্থী অপু বলেন, এত বড় দুর্গাপ্রতিমা কাছ থেকে দেখতে পেরে তাঁর ভালো লাগছে। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৪ ফুটের প্রতিমা তৈরির বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। প্রতিমার কারুকাজ ও মণ্ডপের আয়োজন দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছেন। এমন আয়োজন ঈশ্বরগঞ্জের দুর্গাপূজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সংগঠনের ১৪ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া এই আয়োজন এবার দুর্গাপূজায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমাকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ আর উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে ঈশ্বরগঞ্জের এই পূজামণ্ডপ।
