ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে ‘নালিশ’ করেছেন জামায়াতে ইসলামী।
রোববার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে নয়টি অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পাওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “এই নির্বাচনে গতকাল আমরা জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটা টিম সেখানে নির্বাচনি কাজে অংশ নিতে গিয়েছিলাম।
“সরেজমিন পরিদর্শন করে আমরা সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ লিখিতভাবে আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর পেশ করলাম। একই সঙ্গে তিনটা দাবি পেশ করেছি।”
অভিযোগ করার পরও স্থানীয়ভাবে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানোর কথা বলেছেন এ জামায়াত নেতা।
“আমরা সেনাবাহিনী মোতায়ন করার জন্য বলেছি।… ইসি বলেছে, ‘এখন একটাই মাত্র উপনির্বাচন। যথেষ্ট ফোর্স আছে, যা লাগে তার চেয়ে তিন গুণ ফোর্স দেব’। আমরা বলেছি, হাজার সংখ্যা এখানে ফ্যাক্টর নয়। ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন একটা কথা আছে, সেই লোকটা যদি দলের অনুগত হয় তাহলে সংখ্যায় কাজ হবে না।”
অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে উপ-নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ হবে না’ বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপি শাসনামলের ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছে জামায়াতে ইসলামী।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “একটা মাগুরা উপ-নির্বাচন একটা সরকারকে বিদায় করে দিয়েছে। আমরা এ কথা আজকে ইলেকশন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। ঠাকুরগাঁওয়ে আপনারা আবার মাগুরার ইলেকশন স্টাইলে করতে চান, তাহলে ওই পরিণতির কথা আপনাদেরকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিলাম।”
অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কথায় তারা আশ্বস্ত হননি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলেই আমরা মনে করছি। আমরা যে আশ্বস্ত চেয়েছিলাম, (ইসির) কথা শুনে আমরা আশ্বস্ত হতে পারিনি, বরং কিছুটা হতাশ হয়েছি।
“আমরা দাবি করে যাচ্ছি, নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব, আমরা এখনো নির্বাচন থেকে উঠে যাইনি। আমরা নির্বাচন করার জন্যই এখানে এসেছি আমাদের প্রার্থী মাঠে আছে।”
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন যাতে মাগুরার নির্বাচনে পরিণত না হওয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা কিন্তু এলার্মিং, সরকারের জন্য, নির্বাচন কমিশনের জন্য দেশবাসীর জন্য। আমরা এখন ইলেকশন করতে প্রস্তুত। সেই পরিবেশ আপনারা সৃষ্টি করুন। সেই দাবিগুলো লিখিতভাবে আমরা দিয়েছি।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়।
এ আসনে উপনির্বাচন হবে ২৯ অক্টোবর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত।
এ উপনির্বাচনে প্রার্থীরা হলেন-রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
