ভোলায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলা সদর হাসপাতালে শিশুসহ প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। মাত্র ২০ বেডের বরাদ্দকৃত ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি বা দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চরম শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে এক বেডে দুইজন করে কিংবা হাসপাতালের ঠাণ্ডা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
আজ মঙ্গলবার ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে শিশুসহ ৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গতকাল সুস্থ হয়ে ১৬ জন রোগী বাড়ি ফিরে গেলেও নতুন রোগীর চাপ কমছে না।
জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
এদিকে হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মনপুরার হাজিরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন মশুরা বিবি বলেন, ‘হাসপাতালে এসে কোনো বেড পাইনি। বাধ্য হয়ে ঠাণ্ডা ফ্লোরে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই শীতে মেঝেতে থাকায় বাচ্চারা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’
রোগীদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে রোগীদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও এখানে ঠিকমতো চিকিৎসকের দেখা মিলছে না।
লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়ন থেকে আসা হাম আক্রান্ত মফিজুল ইসলামের স্বজন জানান, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখানে দিনে কোনোমতে একবার ডাক্তারের দেখা মেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের হাম ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ২০টি বেড নির্ধারিত রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা সবসময়ই ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বা তারও বেশি থাকছে। ফলে সীমিত চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শয্যাসংকট থাকলেও সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডসহ যাবতীয় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
