মাগুরায় যুবদল নেতা ও রয়েল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাকের হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর মাথায় গুলির ক্ষত শনাক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পূজার ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মাইনুল হাসান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাকের হোসেনকে প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মাইনুল হাসান। ওই সময় ইসিজি রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত থাকার বিষয়টি তখন শনাক্ত করা হয়নি।
পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের প্রস্তুতিকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্র দেখতে পান। এরপর তাঁকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির জানান, পূজার ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়ার সময় যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা পৌর বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাকের হোসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা রনি শিকদার এবং মাগুরার বুজরুকশ্রীকুন্ডি গ্রামের শামীমা তাবাসসুম।
