ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে স্মার্টফোনে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি এবং মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্কুল-কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছু শিক্ষার্থীর ক্লাস ফাকি দিয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা। সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল-কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়া কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিচ্ছে। তাদের একাংশ স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং ও বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপে সময় কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের আশঙ্কা, সময়মতো এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সন্তানদের চলাফেরা, অনলাইন কার্যক্রম ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন অভিভাবকেরা।
কালীগঞ্জ পৌরসভার এক থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া ও মাদক প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক শাসন কিংবা শিক্ষকদের উপদেশের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশাসনিক নজরদারি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিক উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, যেসব স্থানে মাদক কেনাবেচা ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুলফিকার আলী বলেন, আমরা দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে কীভাবে অনলাইন জুয়ার আসর বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরে ওসি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান প্রতিদিন পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকেরা উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোতে তদন্ত ও আইনানুগ অভিযান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ঝুকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
