হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হাতে অপহৃত চার সেনাকে উদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। সেনাদের জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় মুক্তি না দিলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি বুকেলে।
বিজ্ঞাপন
এল সালভাদরে গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান চালিয়ে পরিচিতি পাওয়া বুকেলে অপহরণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তার হুঁশিয়ারিকে ফাঁকা বুলি মনে করা উচিত হবে না। তিনি লেখেন, ‘আমাদের হুমকিকে ফাঁকা বুলি মনে করবেন না। আমরা এল সালভাদরের গ্যাংগুলোকে শেষ করেছি। আপনাদেরও শেষ করতে পারি।’
তিন দিন আগে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গুলি চালায় সশস্ত্র গ্যাংয়ের সদস্যরা। ওই গাড়িতে থাকা চার সালভাদরীয় সেনা পরে নিখোঁজ হন। গত বছর সহিংসতাকবলিত হাইতিতে আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীর কার্যক্রম শুরুর পর এটি ছিল বড় ধরনের প্রথম হামলা।
নিখোঁজ চার সেনা জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) বিমান চলাচলবিষয়ক কারিগরি কর্মী। পোর্ট-অ-প্রিন্সের ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকার সান্তো এলাকায় তাদের সাঁজোয়া যানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর তারা গাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
‘সেনাদের মুক্তি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’
হাইতির সরকার গত বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানায়, অপহৃত সেনাদের মুক্ত করা তাদের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’। তবে সালভাদরীয় সেনারা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে হাইতির কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান উদ্ধার ও নিরাপত্তা অভিযান পর্যালোচনা এবং কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ঠিক করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। গ্যাং দমন বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জিএসএফের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি। জাতিসংঘ-সমর্থিত এই বাহিনী এখনো রোববারের হামলার ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকায় গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
হাইতিতে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ
সালভাদরীয় সেনাদের ওপর হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্যাং স্বীকার করেনি। এমন এক সময়ে এ হামলা হলো, যখন এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেশটির রাজধানীর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী গ্যাংগুলোর শক্তিরও পরিচয় দিচ্ছে। ধারণা করা হয়, পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে।
হাইতিতে গ্যাং দমনে গঠিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে এল সালভাদর ছাড়াও চাদ, জ্যামাইকা ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশ অংশ নিচ্ছে। দেশটিতে এ বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে পাঁচ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৩০ জনের বেশি মানুষ।
যে এলাকায় সালভাদরীয় সেনাদের সাঁজোয়া যানটি হামলার শিকার হয়েছে, সেটি কয়েকটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শেন মেশাঁ, ভিটেলহোম ইনোসাঁর নেতৃত্বাধীন ক্রাজে বারিয়ে এবং লানমো সাঁজুর নেতৃত্বাধীন ৪০০ মাওজো।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়েই গ্যাংগুলোর দুই নেতা ভিটেলহোম ইনোসাঁ ও লানমো সাঁজুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এএম