যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। তেলবাহী জাহাজে হামলা, অগ্নিকাণ্ড ও সামরিক সতর্কবার্তার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টােবর) রাতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ নৌমাইনে আঘাত লেগে আগুনের কবলে পড়ে। এ ঘটনায় একই ধরনের পরিণতির বিষয়ে অন্য জাহাজগুলোকেও সতর্ক করেছে তারা। খবর আল জাজিরার।
রোববার (১১ অক্টােবর) ইরানের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাবিবোল্লাহ সাইয়ারি বলেন, দেশটির বাহিনী প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—উভয় ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবারও পাল্টা আঘাত হানা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, গত এক দিনে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও সতর্কবার্তার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকারে আগুন লাগার পর ২২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, জাহাজটির চলাচলের সক্ষমতা নষ্ট করা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে অন্তত ১২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। জ্বালানি-বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চললেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, দেশটির নিজস্ব পারমাণবিক শিল্পের অগ্রগতি থামানো যাবে না। আর পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি জানিয়েছেন, কূটনীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ অর্জন সম্ভব না হলে ইরান সামরিক পথেও তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
হরমুজ প্রণালিতে হামলা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্যের কারণে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ বাড়ছে।
