সংগঠনটির মতে, পর্যাপ্ত কারিগরি মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মতামত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা ছাড়া ভূমি ব্যবহারের মৌলিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা গ্রহণযোগ্য নয়। উন্মুক্ত স্থান কোনো নগরের অতিরিক্ত জমি নয়; নাগরিকদের সুস্থ জীবনযাপন, বিনোদন, পরিবেশের ভারসাম্য ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে এসব স্থান অপরিহার্য।
ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সংশোধন করে উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের পরিবর্তে ভারী শিল্পকারখানার অনুমোদন, বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় শিল্পকারখানার সুযোগ এবং পূর্বাচল ও ঝিলমিল এলাকায় অতিরিক্ত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনী পুনর্বিবেচনা এবং জনস্বার্থবিরোধী পরিবর্তন বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিআইপি এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ১২ অক্টোবরের গেজেট-সংক্রান্ত সংশোধনী এবং ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনাগুলো ঢাকার পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির মতে, পর্যাপ্ত কারিগরি মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মতামত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা ছাড়া ভূমি ব্যবহারের মৌলিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা গ্রহণযোগ্য নয়। উন্মুক্ত স্থান কোনো নগরের অতিরিক্ত জমি নয়; নাগরিকদের সুস্থ জীবনযাপন, বিনোদন, পরিবেশের ভারসাম্য ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করতে এসব স্থান অপরিহার্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানার অনুমোদন দেয়া হলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগরের বাসযোগ্যতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া উন্মুক্ত স্থানের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।
ড্যাপ সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিআইপি। সংগঠনটির দাবি, পেশাগত পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজউকের বোর্ড অব মেম্বারস ও বিআইপির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন না। বিষয়টি সত্য হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয় বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিআইপি সংশ্লিষ্ট সংশোধনী কার্যকর করা থেকে বিরত থাকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবেশগত ও পরিকল্পনাগত প্রভাব মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজউক, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া সংশোধনীগুলো কেন, কার সিদ্ধান্তে এবং কোন কারিগরি যুক্তিতে করা হয়েছে, সে বিষয়ে রাজউকের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বিআইপি। ভবিষ্যতে নগর ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন (স্ট্র্যাটেজিক এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট—এসইএ) বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিআইপির মতে, ঢাকার মতো জনবহুল মহানগরে ভূমি ব্যবহারের অপরিকল্পিত পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে। তাই উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য ও নাগরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনী পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
