দুই পা হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসফেরত নুরুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে নুরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে একটি হুইলচেয়ার ও নগদ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের।
এর আগে গত ৪ মে নুরুল ইসলামের দুর্বিষহ জীবনসংগ্রাম নিয়ে বাংলাভিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এরপর তার অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে সহায়তার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর।
নুরুল ইসলাম (৪৫) কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-দুলদিয়া ইউনিয়নের সতরদ্রোন গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় ১২ বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে ওমানে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আবার মালয়েশিয়ায় যান। কিন্তু সেখানে তার দুই পায়ে গ্যাংগ্রিন রোগ দেখা দেয়। একের পর এক অস্ত্রোপচারে প্রথমে ডান পা এবং পরে বাম পা হাঁটুর ওপর পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে বাম পায়ে নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার জমানো সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। অসুস্থতার পর স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তার কোনো সন্তান নেই। পরিবারের মধ্যে একমাত্র মা হাজেরা খাতুন বেঁচে থাকলেও তিনিও দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। ফলে নিজের ও মায়ের দেখাশোনা নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোভাবে দিন কাটছে তার।
সহায়তা পেয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, আজ ইউএনও স্যার ও সমাজসেবা অফিসের স্যার এসে আমাকে একটি হুইলচেয়ার ও নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আমার দুই পা কাটা গেছে। চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হয়। বিদেশে গিয়ে যা কিছু ছিল, সব হারিয়েছি। আমাকে দেখার মতো কেউ নেই। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোভাবে চলছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, নুরুল ইসলামের সমস্যার বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি হুইলচেয়ার ও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন খোঁজখবর রাখবে। আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে সরকারিভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
