গোলের মঞ্চে নায়ক হতে সব সময় আর্লিং হল্যান্ডকে লাগে না, এ যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি। হল্যান্ডকে ছাড়াই ইতিহাদে গ্রিক ক্লাব এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে গোলের উৎসবে মাতল তারা। আর সেই উৎসবের মধ্যমণি ফিল ফোডেন, হ্যাটট্রিক করে যিনি ফিরলেন নিজের চেনা ছন্দে।
২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে গ্রিক ক্লাব এএইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিটি। আর বড় এই জয়ের নায়ক ফিল ফোডেন। একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। বাকি গোল দুটি করেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শেরকি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর ফিরতি বল জালে পাঠান অ্যান্ডারসন। সিটির জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয়ের পর শক্তিশালী শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় এএইকে। ৫২ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান স্তাভরোস পিলিওস। কিন্তু গ্রিক দলটির সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিট পর ফোডেনের বাড়ানো বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে সিটির তৃতীয় গোলটি করেন শেরকি।
এরপর আবারও নিজের জাদু দেখান ফোডেন। ৬৫ মিনিটে লুইসের পাস কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। আর ৭৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় রায়ান ম্যাকঅডুর ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই মিডফিল্ডার। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম এক ম্যাচে তিন গোলের দেখা পেলেন তিনি।
মৌসুমের শুরুর দিকে গোলের জন্য বেশ লড়াই করতে হয়েছে ফোডেনকে। প্রায় ১০ মাসের অপেক্ষা শেষে গত সপ্তাহান্তে ইপসউইচের বিপক্ষে গোল করে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার এএইকের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিলেন ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার। দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে।
অন্যদিকে, আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তও সিটির আক্রমণভাগকে দুর্বল করতে পারেনি। নরওয়েজিয়ান তারকা পুরো ম্যাচে বেঞ্চেই ছিলেন। তার পরিবর্তে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া ১৭ বছর বয়সী ফ্লয়েড সাম্বাও আক্রমণে অবদান রাখেন। দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল আর একের পর এক গোলের সামনে শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে পড়ে এএইকে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি সিটির দ্বিতীয় জয়। আগের ম্যাচে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের পর এই বড় জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দলটি। হল্যান্ড ছাড়াও যে গোলের উৎসব সম্ভব, এএইকের বিপক্ষে পাঁচ গোল করে সেটিই প্রমাণ করল সিটি।
