দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। শনিবার বৃষ্টিভেজা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়েছে রবার্তো দি জারবির দল। চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সের আত্মঘাতী গোলের পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কোল পালমার। শেষ দিকে মাতিস তেলের দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত করে টটেনহ্যাম।
দ্বিতীয়ার্ধে পেন্ডার্সের বড় ভুলে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। এর মাত্র তিন মিনিট পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের ওপর বিপজ্জনকভাবে পা তুলে দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় পালমারকে। ৮৭তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে গোল করে টটেনহ্যামের জয় নিশ্চিত করেন তেল।
১৯৯০ সালের পর থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চেলসির মাঠে আগের ৪১ ম্যাচে মাত্র একবার জিতেছিল টটেনহ্যাম। দীর্ঘদিনের সেই ব্যর্থতার অবসান ঘটিয়ে চেলসির বিপক্ষে লিগে নিজেদের শেষ ১৬ ম্যাচে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল দলটি। দুই দলের সর্বশেষ জয়টি এসেছিল ২০২৩ সালে।
মৌসুমের শুরুতে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর টানা দ্বিতীয় লিগ জয়ে পয়েন্ট তালিকার ১২তম স্থানে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম। এর আগে সোমবার কোভেন্ট্রিকে হারিয়ে লিগে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল তারা।
অন্যদিকে, চতুর্থ স্থানে থাকা চেলসির জন্য এই হার বড় ধাক্কা। আগের দুই লিগ ম্যাচে বোর্নমাউথ ও এভারটনকে হারিয়েছিল দলটি। কিন্তু ঘরের মাঠে টটেনহ্যামের কাছে হারের পর সমর্থকদের দুয়ো শুনে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে প্রথম মৌসুমে এখনো নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি চেলসি।
চোটের কারণে জোয়াও পেদ্রো ছিটকে যাওয়ায় চেলসির আক্রমণভাগে কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন মরগান রজার্স। তবে নতুন বিন্যাসের আক্রমণভাগ থেকে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি।
মাতেও ফার্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো নেতো তা বাড়িয়ে দেন রজার্সকে। তার পাস পেয়ে পালমারের বাঁকানো শট গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে বল কর্নারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন টটেনহ্যামের গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কি।
পাল্টা আক্রমণে টটেনহ্যামও সুযোগ তৈরি করে। অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রস থেকে ওমর মারমুশের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন পেন্ডার্স।
প্রথমার্ধে চেলসির সেরা আক্রমণটি আসে কয়েকটি দ্রুত পাসের সমন্বয়ে। বল পেয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে শট নেন মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। তবে কিনস্কি সেটিও ফিরিয়ে দেন।
এরপর নেতোর জোরালো শটও ঠেকিয়ে দেন টটেনহ্যামের গোলরক্ষক। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় টটেনহ্যামের মিডফিল্ডার জেমস ম্যাডিসনকে। দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে ফিরলেও মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই আবার চোটে পড়লেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পালমার সান্দ্রো তোনালির ভুল পাস থেকে বল পেয়ে নেতোকে সুযোগ তৈরি করে দেন। তবে বিপজ্জনক অবস্থান থেকেও সরাসরি কিনস্কির হাতে শট নেন নেতো।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ফার্নান্দেসের হাতের স্পর্শে পালমারের দৌড় থেমে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চেলসির এই তারকা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে আগ্রাসী আচরণ করেও প্রথমবারের মতো হলুদ কার্ড দেখেই রক্ষা পান তিনি।
এরপর টটেনহ্যামের একটি কর্নার থেকে বিপদ তৈরি হয়। ফার্নান্দেসের বাঁকানো ক্রস সহজেই তালুবন্দী করার সুযোগ ছিল পেন্ডার্সের সামনে। কিন্তু বল ধরার বদলে ঘুষি মেরে সরাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান ২১ বছর বয়সী গোলরক্ষক। তার গায়ে লেগে বল সরাসরি নিজেদের জালে ঢুকে যায়।
চোটের কারণে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অনুপস্থিতিতে লিগে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া পেন্ডার্সের জন্য এটি ছিল ভয়াবহ ভুল।
গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বিপদে পড়ে চেলসি। মাত্র তিন মিনিট পর কোনর গ্যালাঘারের ওপর বিপজ্জনকভাবে পা তুলে দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পালমার। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
সংখ্যায় এগিয়ে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়ায় টটেনহ্যাম। ৮৭তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তেল।
চেলসির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বল নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে বল জালের নিচের কোণে পাঠিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি চেলসি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক জয় উদ্যাপনে মেতে ওঠে টটেনহ্যাম। অন্যদিকে, আত্মঘাতী গোল ও পালমারের বহিষ্কারের ধাক্কায় হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
