শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন সকালে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রামে আসবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দুই শীর্ষ নেতার আগমন ঘিরে নগরজুড়ে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। রাতে সেখান থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে চট্টগ্রামে আসবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বসবেন।
সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সভায় দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এতে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। গত ৯ আগস্টের সভার তুলনায় এবার নেতা-কর্মীদের সংখ্যা কম রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এসএসএফের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নগরের প্রায় ২ হাজার ৬০০ পূজামণ্ডপে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স।
নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজও চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর চট্টগ্রামে আগমন অত্যন্ত আনন্দের। এ সফর সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামে আসবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আমিরে জামায়াত মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামে আসবেন। সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
দুই শীর্ষ নেতার সফর ঘিরে নগরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সম্ভাব্য যাতায়াতপথে নিরাপত্তা এবং নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
