Published on
:
2 min read
এই সময়: দুর্গাপুজোয় কমিটিগুলিকে আবেদনের ভিত্তিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার কথা বলেছিল রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী গোটা রাজ্যের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও অসংখ্য পুজো কমিটি বিদ্যুতের জন্য আবেদন জানায়। নিয়ম করা হয়েছিল, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের পরিমাণ আগাম জানাতে হবে। অভিযোগ, বেশ কিছু পুজো কমিটি তাদের আবেদনে বিদ্যুতের যে চাহিদার কথা জানিয়েছিল, তা ছাপিয়ে গিয়েছে। এ বার সেই সব পুজো কমিটিকে নোটিস দিয়ে সতর্ক করতে চলেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। শুধু সতর্ক করাই নয়, কোন পুজো কমিটি অতিরিক্ত কত পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, তার বিস্তারিত রেকর্ড রাখা হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মোট ১.২৩৯টি পুজো কমিটি বিনামূল্যে বিদ্যুতের জন্য দপ্তরের কাছে আবেদন করেছিল। সবার কাছ থেকে বিদ্যুতের চাহিদার তথ্য নেওয়ার পরে জেলায় মোট ৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল দপ্তর। যা মোট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য পরিকাঠামো ঠিকঠাক না-করলে যে কোনও সময়ে ট্রান্সফর্মার পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারত। এর ফলেই এ বার পুজোয় সে ভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা সামনে আসেনি। তবে তার মধ্যেও বেশ কিছু পুজো কমিটি আবেদনে উল্লেখ করা পরিমাণের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে প্রমাণ পেয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর।
দপ্তরের এক কর্তা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ধরা যাক কোনও পুজো কমিটি আট কিলোওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যবহার করেছে ১২ কিলোওয়াট। এটা করার ফলে যে কোনও মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটতে পারত। সেই কারণে ক্লাব গুলোকে বেছে বেছে নোটিস পাঠানো হবে। জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার বলেন, 'আপাতত প্রতিটি পুজো কমিটির বিদ্যুৎ খরচের নথি তৈরি করা হচ্ছে। যারা আবেদনে উল্লেখ করা বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, ভবিষ্যতে তারা বিদ্যুতের জন্য আবেদন করলে সেই তথ্য নজরে আসবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।' বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট শিবতলী ক্লাবের সদস্য সার্বিক চক্রবর্তী বলেন, 'বিদ্যুৎ দপ্তরের এই উদ্যোগ ভালো। অনেকেই কম লোডের আবেদন করে পুজোর সময়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। সতর্ক করলে পরের বছর বিদ্যুৎ দপ্তরকে সমস্যার মুখে পড়তে হবে না।'
অন্যদিকে, বেশি বিদ্যুৎ খরচ করার অভিযোগে পুজোর মধ্যেই কোচবিহারের ৫৩টি পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করেছিল বিদ্যুৎ দপ্তর। নির্দিষ্ট কোটেশন এবং মিটার নেওয়ার পরেও কেউ পাঁচ, কেউ আবার দশ কিলোওয়াট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ। জেলায় মোট ২,১১৯টি পুজো কমিটি বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছিল। তার মধ্যেই ৫৩টি পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠায় দপ্তর। নোটিস পাওয়ার পরে ফের নতুন করে কোটেশন দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হয়েছে তাদের। বিদ্যুৎ দপ্তরের সিকিউরিটি অ্যান্ড লস প্রিভেনশন উইংস বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের শিলিগুড়ি ডিভিশনে পাঁচশোর বেশি পুজো কমিটি বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছিল। তার মধ্যে ২২টি কমিটি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করেছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। সাবস্টেশনগুলি থেকে তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিছু পুজো কমিটিকে মৌখিক ভাবেও সতর্ক করা হয়েছে বলে খবর। তবে দপ্তর এখনই তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে চাইছে না। মিলনপল্লি বিদ্যুৎ স্টেশনের আওতাভুক্ত একটি পুজো কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, 'রাস্তা এবং মণ্ডপের আলোকসজ্জার কাজ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়েছিল। এর জন্য দপ্তর আমাদের যা করতে বলবে, তাই করা হবে।'
