তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বা এজেন্ডা হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচনকে গ্রহণ করেছে। প্রতিটি সরকারই চায় দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হোক। দারিদ্র্য মুক্তি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বা এজেন্ডা হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচনকে গ্রহণ করেছে। প্রতিটি সরকারই চায় দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হোক। দারিদ্র্য মুক্তি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। কোন দেশের তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল কোন দেশের সরকার যদি তার অর্থনৈতিক এজেন্ডার দারিদ্র্য বিমোচনের কথা না বলে তাহলে সেই সরকারের পক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তা প্রতিটি সরকারই দারিদ্র্য বিমোচনকে তাদের শীর্ষ অর্থনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচন এখন যতটা না অর্থনৈতিক এজেন্ডার চেয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কর্মসূচিতে নিশ্চিতভাবেই দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দারিদ্র্য কি বিমোচিত হবার বিষয়? ইচ্ছে করলেই কি আমরা দেশ এবং পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য নামক বিষয়টিকে বিদায় করে দিতে পারবো? ধনী-দরিদ্র বা বিত্তবান-বিত্তহীন আল্লাহর সৃষ্টি। তাই মানুষ চাইলেই পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারবে না। পৃথিবীর সব মানুষ যদি বিত্তবান হয়ে যেতো তাহলে কাজ করার মতো লোক পাওয়া যেত না। আবার বিশ্বের সব মানুষ যদি দরিদ্র হয়ে যেত তাহলে কাজ করানোর মতো সামর্থ্যবান মানুষ পাওয়া যেতো না। সেই অবস্থায় পৃথিবী অচল হয়ে পড়তো। পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার জন্যই ধনী-দরিদ্রের সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই দারিদ্র্য বিমোচন নয়, বরং দরিদ্র মানুষকে তার ন্যায্য পাওনা প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং উন্নয়নের সুফল ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টনের ব্যবস্থা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পৃথিবীতে সেই দেশেই দারিদ্র্য পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ যেখানে সম্পদের অসম বণ্টনের সুযোগ রয়েছে। ভয়াবহ দারিদ্র্য পীড়িত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের দু’টি প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে একটি ছিল পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। মনে পড়ে ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ শিরোনামের সেই বিখ্যাত পোস্টারের কথা। সে পোস্টারে তৎকালীন পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করি, যারা সোনার বাংলাকে সত্যিকারার্থে ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করতে চেয়েছিলেন তাদের লুটপাটের দৌড়াত্ম্য। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল তা কোন না কোনভাবে এখনো অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে সম্পদের কোন অভাব নেই। প্রকৃতি আমাদের অবারিতভাবে নানা সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু সেই সম্পদ সুষম বণ্টনের পরিবর্তে মুষ্টিমেয় কিছু ভাগ্যবান মানুষের হাতে পুঞ্জিভুত হচ্ছে। সম্পদের অভাব আমাদের দুর্ভোগের প্রধান কারণ নয়।
আমাদের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হচ্ছে অর্জিত সম্পদ ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টনের ব্যবস্থা না করতে পারা। স্বাধীনতার পর বিত্তবান-বিত্তহীনের মধ্যে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবধান ছিল অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে মারাত্মক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে একটি বিশেষ শ্রেণিকে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মদদে দেশে বিত্তবান ও বিত্তহীনের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান বা অর্থনৈতিক বৈষম্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন মোতাবেক, ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে শীর্ষ ১০টি বিত্তবান পরিবারের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ পরিবারের হাতে ছিল জাতীয় আয়ের ২দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এসে জাতীয় আয়ের শীর্ষ ১০ বিত্তবান পরিবারের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ শতাংশ। এর বিপরীতে জাতীয় আয়ে সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ পরিবারের অংশ কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। দারিদ্র্য বিমোচনের মুখরোচক শ্ল্া্গােনের সফলতা অর্জনে আমরা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিল।
বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবণতি ও সম্পদ বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করার পেছনে সম্পদের অভাব নয়, দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারই দায়ী। বাংলাদেশে এক শ্রেণির মানুষ আছেন যাদের নিকট অর্থই মুখ্য, সেটা কিভাবে অর্জিত হলো সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। এ শ্রেণির মানুষ মনে করেন, MONEY IS THE SECOND GOD’. টাকা কিভাবে অর্জিত হলো সেটা তাদের নিকট মুখ্য নয়। যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তাদের যে বেতন-ভাতা দেয়া হয় তাতে স্ট্যাটাস মেইটেন করে সংসার চালানোই দায়। কিন্তু আমরা কি প্রত্যক্ষ করছি? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন অথবা ছিলেন এমন অনেক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। এটা নিশ্চয়ই সৎভাবে উপার্জিত অর্থ দ্বারা অর্জন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে বিত্তবান-বিত্তহীনের মধ্যে দিনদিন ব্যবধান বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যমান ব্যাপক ভিত্তিক দুর্নীতি। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যর্থতার কারণেই দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি অর্জন করলেও সেই উন্নয়নের সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে না। আর মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে এখানেই। যারা অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করেন তাদের অনেকেই দেশে সেই অর্থ ব্যবহার না করে বিদেশে পাচার করে দেন। আগে বিদেশি লুটেরাগণ আমাদের দেশে এসে সম্পদ লুটে নিতো। আর এখন আমাদের দেশের এক শ্রেণির বিশ্বাসঘাতক নিজ দেশের সম্পত্তি বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সম্পদ পাচারকারী প্রতারকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া না হলে এ প্রবণতা বন্ধ হবে না।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদেন বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে মোট ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছে। এ নিয়ে গত ৪ বছরে মোট ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে যেসব সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে তার মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সবার জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান না করতে পারা অন্যতম। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের দারিদ্র্য পরিস্থতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি জনিত কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে দারিদ্র্য সীমার সামান্য উপরে অবস্থান করছে ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ। সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অভিঘাতে এরা দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন মানুষের দৈনিক গড়ে ২ হাজার ১২২ ক্যালরি খাদ্যগুণসম্পন্ন খাবার ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা আয় করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে বলে মনে করা হয়। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে সবচেয়ে বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে ২০২৪ সালে। এ বছর মোট ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে। একবার দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেলে তার পক্ষে পুনরায় দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠে আসা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
২০০১ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের হার ছিল মোট জনসংখ্যার ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী দু’দশকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসনে বেশ সাফল্য অর্জন করেছিল। ২০২২ সালে দরিদ্র মানুষের হার নেমে আসে ১৮ শতাংশে। কিন্তু তারপর থেকে আবারো পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। করোনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধজনিত কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হওয়ায় দারিদ্র্য পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। দেশে বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৫ কোটি বলে ধারণা করা হয়। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (পিপিআরসি) গত বছর আগস্ট মাসে প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেøখ করেছিল, ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সংস্থাটি ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে জরিপের ফলাফলে উল্লেখ করেছিল, করোনাকালীন লকডাউন ও আয়ের ক্ষতির কারণে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৬৯ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যাবার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তাদের তৃতীয় ধাপের জরিপে উল্লেখ করা হয়েছিল, করোনার অভিঘাতে নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে। করোনাকালীন সময় এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে তাদের অধিকাংশই আর দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠে আসতে পারেনি। যারা করোনাকালীন সময়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে তাদের একটি বড় অংশই কর্মচ্যুৎ হয়েছে। অনেকেই শহর থেকে গ্রামে চলে গেছে। কিন্তু আর শহরে ফিরে আসতে পারেনি।
দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর কৌশল হচ্ছে উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য গ্রহণযোগ্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কর্মসংস্থানের বাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। জ্বালানি সঙ্কটসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে কল-কারখানায় উৎপাদন কমে যাবার কারণে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্প ও সেবাখাতে কর্মসংস্থানের হার কমেছে। কিন্তু কৃষিখাতে কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে। কিন্তু কৃষিতে যে কর্মসংস্থান হয় তাকে এখনো আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। আর কৃষিতে যারা কর্মসংস্থান করেন তাদের মজুরির হার শিল্প ও সেবা খাতের তুলনায় অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালে ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি দশটির মধ্যে ৭টি কর্মসংস্থান হয়েছে কৃষি খাতে। একই বছর মোট ২০ লাখ মানুষ শ্রম বাজারে প্রবেশ করেছে। ফলে শ্রমবাজারে প্রবেশকারিদের মধ্যে ১১ লাখ কর্মহীন রয়েছে। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা তো দূরে থাক সাধারণ মানের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে এমন সব কর্মে নিযুক্ত হচ্ছেন যাকে প্রকৃত কর্মসংস্থান বলা যায় না। এসব কাজে বেতন বা মজুরির হার অতি নগন্য। কর্মসংস্থান হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান হাতিয়ার। কর্মসংস্থান ব্যতীত দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার না থাকায় কর্মসংস্থান বলতে প্রধানত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাকেই বুঝায়। কিন্তু সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানিক চাকরির মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। বেকার সমস্যা সমাধান করতে হলে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে প্রতিটি মানুষের হাতকে ‘কর্মীর হাতিয়ারে’ পরিণত করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো কারিগরি এবং বৃত্তিমূললক শিক্ষাকে ততটা গুরুত্ব দেয়া হয় না যতটা গুরুত্ব দেয়া হয় সাধারণ শিক্ষাকে। উন্নত দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষার হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ মাত্র। কারিগরি শিক্ষার হার অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করা না গেলে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব হবে না। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষ যদি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে তাহলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি তার জন্য কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি ও অর্থনীতি বিষয়ক লেখক।
