October 13, 2026, 9:21 pm
আট মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছে সাড়ে ৪ লাখ রেমিট্যান্স যোদ্ধা, আয় ২৬ বিলিয়ন ডলার
Reporter Name
- Update Time : Tuesday, October 13, 2026
- 12 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈধ উপায়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সাড়ে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী পাড়ি জমিয়েছেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, এই তালিকায় থাকা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০৯টি রাষ্ট্রে নিজেদের কর্মক্ষেত্র বেছে নিয়েছেন। একই সময়সীমার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে প্রবাসীরা প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন সমতুল্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করেছেন। বিশ্ববাজারের নানা সংকটের মধ্যেও এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর বিদেশ যাত্রা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স আসা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে।
বিএমইটির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজের সন্ধানে সৌদি আরব গমন করেছেন। নির্দিষ্ট এই কয়েকমাসে সৌদিতে প্রায় দুই লাখ ১৮ হাজার কর্মী পৌঁছান। এছাড়া সিঙ্গাপুর, কাতার, মালদ্বীপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোর পাশাপাশি ইউরোপের দেশ যেমন ইতালি, পর্তুগাল এবং সার্বিয়া কিংবা বেলারুশের মতো নতুন গন্তব্যেও বহু বাংলাদেশি কর্মী কাজের সুযোগ পেয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারের বাইরেও এই নতুন দেশগুলোতে কর্মীদের পদচারণা বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের পরিধি আরও প্রসারিত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত আট মাসের বেশি সময়ে দেশে মোট ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে বছরের বিভিন্ন মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণে ভিন্নতা থাকলেও সামগ্রিক প্রবাহ ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে বসন্ত ও গ্রীষ্মের বিভিন্ন মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিনশো কোটি ডলারের কাছাকাছি কিংবা অতিক্রম করেছিল। বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান বিভিন্ন অস্থিরতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রবাসীদের এই নিয়মিত অর্থপ্রেরণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও সরকার বসে নেই। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং ওমান, কাতার ও ইতালির সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


