পুলিশের হাতে ঢাকার ৫৪৫ চাঁদাবাজের তালিকা, বেশী যে এলাকায়!
রাজধানীতে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটনার পর সক্রিয় ৫৪৫ সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকার। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র। এই তালিকা অনুযায়ী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও পুরোদমে অভিযান শুরু করতে পারেনি। কারণ তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় ডেইলি স্টার। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি না বা নিলে কোনো বিপদে পড়তে হবে কি না, এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা দ্বিধায় ভুগছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের তালিকা তৈরি করা হয়। এর আগে ডিএমপি ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি করেছিল, সেই তালিকায় দেখা যায়, একটি বড় অংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, আগের তালিকা যাচাই-বাছাই এবং মাঠপর্যায় থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহের পর সর্বশেষ তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক তখন এই তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন চাঁদাবাজ রয়েছে তেজগাঁও বিভাগে ১৫৫ জন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে গুলশানে ৮৫ জন, উত্তরায় ৭২, লালবাগে ৭১, মিরপুরে ৬৬, রমনায় ৫০, ওয়ারীতে ২৪ ও মতিঝিলে ২২ জন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই তালিকার মধ্যে ২১৫ জনের নাম-পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে অন্তত ৭৫ জনের সঙ্গে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্ত বাকি ১৩৪ জনের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। অবশিষ্ট ছয়জনের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দুজন সাবেক পুলিশ সদস্য। ডিএমপির মিডিয়া উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপনও রয়েছেন। গত ৫ অক্টোবর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) স্বপনকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করে। পরদিন পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এক চিকিৎসকের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এসআরবি সূত্র জানিয়েছে, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগেই স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এসআরবি কোনো নির্দিষ্ট মামলার আসামি হিসেবে স্বপনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। ফলে একটি পুরোনো চাঁদাবাজির মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি এসআরবি খিলক্ষেত এলাকার এক বিএনপি নেতাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে, যার নাম ওই তালিকায় ছিল। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল, কারণ তাকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলাম। পরে কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু দুই দিনের মধ্যেই তিনি জামিন পেয়ে যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘তালিকাভুক্ত কোনো চাঁদাবাজ যদি দুই-তিন দিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে যান, তবে এভাবে তালিকা করে বা গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া পুলিশ চাইলেই কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। আমরা যদি কেবল তালিকার ওপর ভিত্তি করে কাউকে গ্রেপ্তার করি, তবে তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখাব? এ ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। যেহেতু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাইনি, তাই আমরা ধীরে এগোচ্ছি।’

যে দিন থেকে লাইসেন্স ছাড়া ফুটপাতে চা-পেয়াজু-মুড়ির ব্যবসা করা যাবে না
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তাতে আগামী নভেম্বর থেকে সড়কের পাশে পিঠা, পুরি, ঝালমুড়ি ও পেঁয়াজু বিক্রির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নতুন নিয়মের আওতায় ছোট খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানও থাকবে।মানচিত্র দেখুন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ কার্যকর করতে যাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ জুলাই প্রবিধানমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এতে ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন এবং চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। এ ছাড়া প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং কাঁচা ও তাজা খাবার ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকদেরও নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, জৈব খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের নির্ধারিত কার্যক্রমও এ নিয়মের আওতায় থাকবে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসারে লাইসেন্স নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ এবং লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ ব্যবহার করতে হবে। নতুন নিয়মে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে খরচ হবে ৬০ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে পুরো আবেদনপ্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে খাদ্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাবেক দুই মেয়রসহ ৩ আওয়ামী লীগ নেতা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতা ও দুই মেয়রসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্তরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মিন্টু এবং আটঘরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আটঘরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু ঈসা। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন। এর আগে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন ইকবাল রোডের প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন বাসা নং-২/১০ এর সামনে পাকা রাস্তার ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নারী ও পুরুষ সদস্য অবৈধ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলির দিকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

‘এখন থেকে ভাড়া ইমনকে দিতে হবে বলে হামলা-লুটপাট'
রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ‘এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দিতে হবে’- এমন হুমকি দিয়ে একদল ব্যক্তি কার্যালয়টিতে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এ সময় কয়েক লাখ টাকার পণ্য, ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র (ডিভিআর) নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় শতাধিক ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এরপর তাঁরা আশপাশের কয়েকটি বাড়ির সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে হামলাকারীদের একটি দল দেয়াল টপকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। হামলাকারীদের অনেকের মুখে মুখোশ ও মাথায় হেলমেট ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কার্যালয়ে ঢুকে হামলাকারীরা প্রথমে সিসি ক্যামেরা ও ডিভিআর খুলে নেয়। পরে অফিসের আসবাব ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কার্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই জমিতে তাদের প্রধান গুদাম ও কার্যালয় গড়ে তোলা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এত দিন শিকদার গ্রুপকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছিল তারা। কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা জানায়, শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দিতে হবে। অন্যথায় সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আরও জানান, এই কার্যালয় থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি গাড়ির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করা হয়। হামলার পর থেকে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহার করে একটি দল কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাউকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

দেশে ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত: ডা. জুবাইদা
দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় নারীদের হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতির চিত্র অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির প্রস্তাব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে নিয়মিত আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শৈশব থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই পুষ্টি, ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগ এবং এর জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, অস্টিওপোরোসিসের ক্ষতিকর পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হচ্ছে। হাড়ের ক্ষয়জনিত এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। | ঢাকা : দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় নারীদের হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতির চিত্র অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির প্রস্তাব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে নিয়মিত আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শৈশব থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই পুষ্টি, ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগ এবং এর জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, অস্টিওপোরোসিসের ক্ষতিকর পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হচ্ছে। হাড়ের ক্ষয়জনিত এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

