চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় লুণ্ঠিত চিনির মধ্যে ১৩৪ বস্তা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বান্দরবানের লামা থানাধীন আজিজনগর বাজার থেকে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়। লুণ্ঠিত আরও ১৬৬ বস্তা চিনির খোঁজ মেলেনি।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

এদিকে লুণ্ঠিত চিনির আংশিক উদ্ধারের ঘটনায় পুরো ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। চিনি উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পটিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব বলেন, ‘কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে ১৫ টন (৩০০ বস্তা) চিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব চিনি আজিজনগর বাজারের ব্যবসায়ী রাজিব স্টোরের মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে কিনে নিয়ে স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি করে দেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি মুদি দোকান থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। সবাই জুয়েলের কাছ থেকে বুধবার সকালেই এসব চিনি কিনেছেন বলে জানিয়েছেন। আমাদের অভিযানের খবর পেয়ে জুয়েল পালিয়ে গেছেন। এরপর থেকে জুয়েলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইলই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব বলেন, ‘কাভার্ডভ্যান চালক আলমগীরের মোবাইলটি সর্বশেষ ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় ভেল্লাপাড়া এলাকায় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাভার্ডভ্যানটি কর্ণফুলী উপজেলার নতুন ভবন এলাকার সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।’

বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে কাভার্ডভ্যানটির চালক আলমগীরকে পটিয়ার বাদামতল এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে ভর্তি করান কক্সবাজারগামী আরেক কাভার্ডভ্যান চালক আবুল কালাম আজাদ।
বিজ্ঞাপন
আবুল কালাম বুধবার দুপুরে বলেন, রাস্তার পাশে বাদামতল এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। পরে সামান্য হুঁশ ফিরলে তাকে পটিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। আলমগীরের ভাষ্য অনুযায়ী তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছে।
ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটি (যশোর-ট-১১-৪৬৫৭) ভাড়ায় নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পরিবহন ঠিকাদার জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, ‘মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর ২৮ টন চিনি পরিবহনের জন্য কাভার্ডভ্যানটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি আনলোড করে। পরে ফুলকলির পটিয়া কারখানায় বাকি ১৫ টন চিনি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার দিনগত রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সাথে আমার কথা হয়েছিল। তখন চালক জানায়, গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহিট (যান্ত্রিক জটিলতায় অতিরিক্ত গরম) হওয়ায় মইজ্যারটেক এলাকায় দাঁড়িয়েছিল। গাড়ির ত্রুটি সাড়িয়ে পটিয়ার নাইখাইন এলাকার কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকাল ৯টার দিকে অন্য একজন চালক ফোন করে আলমগীরকে হাসপাতালে ভর্তির কথা জানান।’
চিনি সরবরাহকারী চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম কাভার্ডভ্যান চালককে সন্দেহ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নাসিরাবাদ কারখানায় ১৩ টন চিনি আনলোড হওয়ার পর রাতে যখন কাভার্ডভ্যানের চালকের সাথে কথা হচ্ছিল, তখন চালক বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছিল। কাভার্ডভ্যানের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানায় চালক।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা বুধবার রাতে আজিজনগর বাজারে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করেছি। এগুলো স্থানীয় রাজিব স্টোরের মালিক কিনে ওখানকার মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি করেছেন।’
এমডিআইএইচ/বিএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
