সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার উদ্বেগের মুখে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টা ১১ মিনিট নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ৩ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ১ সেন্টে পৌঁছেছে। দিনের শুরুর দিকে এর দাম প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ৬৮ সেন্টে উঠেছিল, যা ১৮ মে এর পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৪১ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে; এর আগে অবশ্য দাম ১০০ দশমিক ০৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
পিভিএম অয়েল -এর বিশ্লেষক তামাস ভার্গার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়কে ছাড়িয়ে গেছে—এমন খবর পাওয়া গেলেও, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর হামলা এবং সৌদি আরবে ও দেশটির তেল অবকাঠামোর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ সেই ইতিবাচক প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে।”
তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই, যার ফলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকার আশঙ্কা রয়েছে।”
মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা এক নোটে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল।
বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকো তাদের দাহরানের সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরে যেতে এবং দূর থেকে (রিমোটলি) কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের মিশনগুলো থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কয়েকটি মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
