ভারতের আসামে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১,১০০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ ও তাঁদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম লিখেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি সমযয়ের পুরোনো।
আসাম রাজ্য কর্তৃপক্ষ খাস ও বনাঞ্চলের জমি ‘দখলদারদের’ হাত থেকে উদ্ধারের অজুহাতে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এনসিপি আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের এই অঞ্চলের সঙ্গে বহু পুরোনো ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই তারা বংশপরম্পরায় এই জমিতে বসবাস করে আসছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, উপযুক্ত পুনর্বাসন বা বিকল্প কোনো সহায়তার ব্যবস্থা না করেই এই পরিবারগুলোকে গৃহহীন ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেককে ডিটেনশন সেন্টারেও পাঠানো হয়েছে, যা অমানবিক।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ভারতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বাঙালি মুসলিমদের ওপর বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতারই অংশ এটি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত এক দশকে একইভাবে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। ক্রমাগত প্রশাসনিক চাপ, সীমান্তে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া (পুশ-ইন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো প্রক্রিয়ার শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
এই অভিযানকে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ বেআইনিভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের দুঃসহ স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।’
উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে ভারত সরকার মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুসহ নিজেদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমলে নিতে হবে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের জন্য ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্ণ, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরাও ভারতেরই নাগরিক—এই সত্য উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।’
