আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে নিষিদ্ধ পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগসূত্র সন্দেহে মহারাষ্ট্র এটিএস মুম্বইয়ের মাহিম এলাকা থেকে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। মহম্মদ হাসান আবু সরমাদ আখতার নামক অভিযুক্তকে একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এটিএস-এর কালাচৌকি ইউনিট মাহিম মেট্রো স্টেশনের কাছে থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, হাসান র্যাপিডো রাইডার হিসেবে কাজ করতেন এবং সুগন্ধি বিক্রি করার পাশাপাশি সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রপন্থী ও দেশবিরোধী মতাদর্শ প্রচার করতেন। এটিএস দাবি করেছে, প্রাথমিক তদন্তে পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে হাসানের সরাসরি যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। হাসানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৯৬(১)-এ মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধারা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্ম, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে শত্রুতা ছড়ানো এবং সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এটিএস-এর দাবি, অভিযুক্ত হাসান একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ চালাতেন যেখানে তিনি ১ জুন, ২০২৬ তারিখে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও ভাষণ আপলোড করেছিলেন। সংস্থাটির দাবি, সেই কন্টেন্টে সংবেদনশীল বিষয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যও ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, হাসান পাকিস্তান-সমর্থিত ‘ইবনে-কাসিম’ নামক একটি চরমপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলের সক্রিয় সদস্যও। এই চ্যানেলের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে এটিএস। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্তকারীরা আরও প্রমাণের সন্ধানে এর বিষয়বস্তু এবং ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন।
এটিএস হাসানের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টও খতিয়ে দেখছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুম্বই সফরের সময় নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। সেই পোস্টে বেশ কিছু দেশবিরোধী কমেন্ট নজরে রয়েছে এটিএসের। তদন্তকারীর খতিয়ে দেখছেন যে, অনলাইন পোস্ট ও কমন্টগুলি চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা উস্কে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না।
চলতি বছরের শুরুতে জইশের সঙ্গে সন্দেহজনক যোগসূত্র এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে মহারাষ্ট্র এটিএস মুম্বাই থেকে এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। সেই মামলার তদন্তকারীরাও তদন্তের অংশ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল এবং সন্দেহভাজনের পরিচিতি খতিয়ে দেখেন। হাসানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
