Published on
:
2 min read
এই সময়, কোচবিহার: এক-একজন চালকের কাছে প্রতিদিন পাঁচ লিটার জ্বালানি বাঁচানোর আবেদন রাখছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)। নিগমের মতে, এটা করতে পারলেই বছরে অন্তত ১০ কোটি টাকা আয় বাড়ানো যাবে। সমীক্ষা এবং নানা হিসেব-নিকেশ করে এই অঙ্কে পৌঁছেছেন এনবিএসটিসি কর্তৃপক্ষ। তাই এ বার চালকদের নিয়ে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরেরও আয়োজন করেছে নিগম।
শুধু তাই নয়, যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, প্রবীণ এবং মহিলা যাত্রীদের বাসে তোলা এবং নামানোর সময়ে কন্ডাক্টরদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া-সহ গুচ্ছ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিএসটিসি। নিগমে সবমিলিয়ে চারটি ডিভিশন রয়েছে। আছে ২১টি ডিপো। চালক এবং কন্ডাক্টর মিলিয়ে রয়েছেন প্রায় ১,৬০০ জন। এ মাসেই ছ'দিনে প্রশিক্ষণ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিগম। প্রতিটি ডিভিশনে ৩০ জন করে মোট ১২০ জন চালক এবং কন্ডাক্টরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নিগমের হাতে বর্তমানে ৭০০টি বাস রয়েছে। তার মধ্যে গড়ে প্রতিদিন ৫৫০টি বাস চলাচল করে। নিগমের হিসেব অনুযায়ী, চলাচলকারী বাসগুলি প্রত্যেকদিন পাঁচ লিটার করে জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারলে প্রতিদিন দু'লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা করে খরচ কমবে। এই হিসেবে বছরের শেষে গিয়ে খরচ কমার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১০ কোটি টাকা। কী ভাবে জ্বালানি সাশ্রয় হবে? নিগমের এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, 'ধরা যাক, একটি বাসের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০০ লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়। চালক যদি ক্লাচ-এর ব্যবহার একটু কমান, তাহলে জ্বালানিও কম লাগবে। আর কিলোমিটার-প্রতি মাইলেজও বেশি দেবে। এতে ১০০ লিটার জ্বালানির মধ্যে পাঁচ লিটার বাঁচানো সম্ভব আমরা হিসেব কষে জানতে পেরেছি।'
এই বিষয়গুলিই আরও বিস্তারিত ভাবে চালক এবং কন্ডাক্টরদের জানানো হচ্ছে প্রশিক্ষণ শিবিরে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে আর কী, কী করা যায়- সেই বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। গাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগলে কী করতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে ওই শিবিরে। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বিনীকুমার রায় বলেন, 'মানব উন্নয়ন এবং আয় বাড়ানো- দু'টি দিকই সবাইকে দেখতে হবে। পাশাপাশি নতুন অনেক চালক এবং কন্ডাক্টর নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কোনও প্রশিক্ষণ হয়নি। তাই একসঙ্গে সমস্ত কিছু নিয়েই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।'
