পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার গুরুতর দুটি নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সতর্কতার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা ঝুঁকির মাত্রা পর্যালোচনা করছেন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটটি পুনরায় সচল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এটি কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির এই নির্দিষ্ট ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশ কার্যকর করতে পারে। এর ফলে সার্ভারের গোপনীয় ফাইল, ডেটাবেজ ও স্পর্শকাতর তথ্য চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।
এই আশঙ্কায় বাংলাদেশ ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবা সাময়িকভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের পাশাপাশি জানা গেছে, যেসব ব্যাংকের ওয়েবসাইট পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, সেগুলোর কয়েকটিও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে থাকা প্রায় সাড়ে ছত্রিশ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো সরাসরি এই নির্দিষ্ট ঝুঁকিতে পড়ছে না, তবে নিরাপত্তার খাতিরে অন্যান্য সরকারি ওয়েবসাইটের প্রযুক্তিগত সুরক্ষাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
