Published on
:
2 min read
সূর্যকান্ত কুমার, কালনা
কাকতালীয়? হতেই পারে! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে ফুটেছে পদ্ম। আর দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এ বার পদ্মফুলের জোগানও হয়েছে পর্যাপ্ত। মুখে হাসি চাষিদের।
এ বার পুজো অনেকটা দেরিতে শুরু হওয়ায় হিমঘরে পদ্মফুল মজুদ করার সুযোগ পেয়েছেন চাষিরা। ফলে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে। জোগান যথেষ্ট থাকায় পদ্মফুলের দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে।
কালনা মহকুমার বৈদ্যপুর, তালা, মিরহাট, ভুরকুণ্ডা, মন্তেশ্বরে পদ্মফুলের চাষ হয়। এখানকার পদ্ম যায় জগন্নাথ ঘাট, চুঁচুড়া, মগরা–সহ বিভিন্ন এলাকায়। জগন্নাথ ঘাট হয়ে পদ্ম যায় ভিন রাজ্যেও। বাসন্তীপুজোয় পদ্মের কিছুটা চাহিদা থাকে। তার পরে মূলত দুর্গাপুজোর দিকেই তাকিয়ে থাকেন পদ্মচাষিরা।
দুর্গাপুজো থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত ব্যাপক চাহিদা থাকে পদ্মর। এ বার রাজ্যে পালাবদলের পরে পদ্মফুলের আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে পদ্মর মালা ও পদ্মফুলের বিক্রি বেড়েছে। বৈদ্যপুর এলাকার পদ্মচাষি দীপনারায়ণ সিং বলছিলেন, ‘পুজো এ বার অনেকটাই দেরিতে হচ্ছে। চাষিরাও তার চাষ এবং সংরক্ষণের অনেকটা সময় পেয়েছেন। ফুল যেমন হচ্ছে, তেমনই তা হিমঘরে রাখার সময়ও প্রচুর পেয়েছেন সবাই।’
পদ্মর জোগান ভালো হওয়ায় দামও অনেক সস্তা হয়েছে। এখন বাজারে খুচরো এক পিস পদ্মর দাম ৮ থেকে ১০ টাকা। পাইকারি ১০০ পিস পদ্মর দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। পুজোয় টাটকা পদ্মর দামও এ বার পিস প্রতি ছয় থেকে আট টাকার মধ্যে থাকবে। সোমবার ১০০ পিস পদ্মর দাম ছিল ৫০০ টাকা।
দীপনারায়ণ বলছেন, ‘সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এ বার পদ্মর চাষ করেছি। যে ভাবে বেচাকেনা চলছে, তাতে আমি খুশি।’ তালার পদ্মচাষি শঙ্কর সাঁতরার মন্তব্য, ‘গ্রীষ্মকালে পদ্মফুলের দাম থাকে না। চাষিরা গাছ কেটে দেয়। এ বার আবার জ্যৈষ্ঠে মলমাস থাকায় তেমন চাহিদা ছিল না। তবে পুজোয় এ বার ভাল বাজার মিলেছে। হিমঘরে পদ্ম মজুত করে রাখা হয়। ১২-১৩ দিন হিমঘরে পদ্ম খুব ভালো থাকে।’
বড়ধামাসের পদ্মচাষি মানিক বাগ বললেন, ‘এক বিঘা জলাশয়ে পদ্মফুলের চাষ করতে ২০–৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। চাষ করলে মেলে ৪০ হাজার পদ্ম। পদ্ম সংগ্রহ করার ঝুঁকি রয়েছে। অনেকেই সাপের ছোবলে মারা গিয়েছেন। তবে সবমিলিয়ে এ বারের পুজোয় পদ্মফুলের বাজার রীতিমতো ভালো।’