Published on
:
2 min read
অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যা সওয়া সাতটা— শনিবার দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টার বৈঠকে দিল্লি পুলিশের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ৷ আগামী দিনে কোন পথে এগোবে দিল্লি পুলিশ, তার রোডম্যাপও স্থির করে দিয়েছেন শাহ। সম্প্রতি দিল্লি–সহ দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ–আন্দোলন চলছে। স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব না ফেলে কী ভাবে এই বিক্ষোভে রাশ টানা যায়, সূত্রের খবর এই বিষয়ে তাঁরই মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশকর্তাদের হাতে–কলমে শনিবার পাঠ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তিনি জানিয়েছেন, মহিলাদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে সুনিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দিল্লির কোনও অংশে মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া যাবে না৷ দেশের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ড্রাগসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পেডলার্স নেটওয়ার্ক ভেঙে গুিঁড়য়ে দিতে হবে, রাজধানীকে কোনও ভাবে অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল হতে দেওয়া হবে না, বন্ধ করতে হবে গ্যাং ওয়ার— সাফ নির্দেশ শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা৷ দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার ছাড়াও দিল্লি পুলিশের সব স্পেশাল কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার–সহ অন্য উচ্চপদস্থ কর্তারা প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।
এমন একটা সময়ে এই বৈঠক, যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছে৷ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ। স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি পুলিশ আধিকারিকদের সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দিতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিক্ষোভ ঠেকাতে পেলেট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতিতে শনিবারের বৈঠকে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ দিল্লি পুুলিশের শীর্ষ কর্তাদের থেকে শাহ জানতে চান সিজেপির বিক্ষোভের সময়ে দায়ের হওয়া ৫৭টি মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও৷ এই ৫৭টি কেস ট্রান্সফার করা হয়েছে দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে। এর মধ্যে কংগ্রেসের রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআরও আছে। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস, আইসা নেত্রী নেহা বোরার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর তদন্তভারও দেওয়া হয়েছে দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে। পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের হেনস্থা করার এফআইআর রয়েছে ১০টি।
সূত্রের দাবি, দিল্লি পুুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা শনিবার একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমনে গৃহীত তাঁদের পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করেন শাহের সামনে৷ প্রশংসিত হয়েছে দিল্লি পুলিশে কর্তব্যরত মহিলা জওয়ান এবং আধিকারিকদের ভূমিকাও৷ ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর এবং ১৬ অক্টোবর কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের জওয়ান এবং আধিকারিকরা যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ দিল্লির সর্বত্র আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে পিপল টু পিপল কন্টাক্ট নীতি নিয়েই এগোতে হবে দিল্লি পুলিশকে, জোর দিতে হবে জনসংযোগে— বার্তা শাহের।
