ইন্দিরা গান্ধীর নামাঙ্কিত তিনটি পেনশন প্রকল্পের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে। নতুন নামের সঙ্গে যুক্ত হবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দ। একই সঙ্গে দিব্যাঙ্গদের পেনশনের নিয়মে পরিবর্তন এবং জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
নামবদলের পাশাপাশি পেনশনের নিয়মেও বদল এনেছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য দিব্যাঙ্গদের জন্ম থেকেই পেনশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এত দিন ১৮ বছর বয়সের আগে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ছিল। বেঞ্চমার্ক দিব্যাঙ্গতার ন্যূনতম সীমাও ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। মাসিক পেনশন ৭৯ বছর পর্যন্ত ৩৭৫ টাকা এবং ৮০ বছর থেকে ৬২৫ টাকা।
সরকারি প্রকল্পের নামকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে ইন্দিরা আবাস যোজনার নাম বদলে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। ন্যাশনাল মিশনের জওহরলাল নেহরু আরবান রিনিউয়াল পরিবর্তে এসেছে ‘অম্রুত’। এবার পেনশন প্রকল্পের নামবদলও সেই প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। তবে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নামের পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা ও পরিধির দিকেও নজর রয়েছে।
এ ছাড়া, এদিন ২০২৬-‘২৭থেকে ২০৩০-‘৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাঁচ বছরে এই খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা ৫৩,৪২৮ কোটি টাকা। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ৩.২০ কোটি উপভোক্তা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, নামবদল এবং পেনশনের নিয়মে সংশোধন-দুই পথেই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
