নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ফিফা সভাপতি পদ ধরে রাখতে মরিয়া জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আরও চার বছর ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি। ফিফার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লাভবান হতে পারে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও।
সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী চার বছরে সদস্য দেশগুলির ফুটবলের উন্নয়নে মোট ৬০,৪৩২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন ইনফান্তিনো। সেই প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রত্যেক সদস্য দেশ চার বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা করে পেতে পারে। ভারতও পাবে সেই অর্থ। বর্তমানে চার বছরের জন্য সদস্য দেশগুলিকে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়। ফলে প্রস্তাব পাশ হলে বরাদ্দের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছয় মহাদেশের ফুটবল সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি। আগামী ডিসেম্বর মাসে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন মিললে আগামী বছর মার্চে ফিফা কংগ্রেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। দুই স্তরেই অনুমোদন পেলে সদস্য দেশগুলি ফুটবলের পরিকাঠামো ও উন্নয়নের জন্য বাড়তি অর্থ পাবে।
চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, “ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবলের উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ফুটবলের বিকাশ ঘটানোই ফিফার মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।” আগামী বছর ১৮ মার্চ মরক্কোয় ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি পদের নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ইনফান্তিনোকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। চলতি বছরের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একাধিক ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রি সংক্রান্ত তাঁর প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয় ফিফা সভাপতিকে।
এই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবকে নিছক ফুটবলের উন্নয়নের পদক্ষেপ হিসাবেই দেখছেন না অনেকে। নির্বাচনের আগে সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসাবেও এই পরিকল্পনাকে দেখছেন কেউ কেউ। বরাদ্দ বাড়লে ছোট ও উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলি উপকৃত হতে পারে। তাদের সমর্থন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ইনফান্তিনোর কাছে। তবে প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত নয়। ফিফা কাউন্সিল এবং কংগ্রেসে অনুমোদন পাওয়ার পরেই পরিষ্কার হবে, সদস্য দেশগুলির জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না। আপাতত নজর সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।
