Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: ভোটার লিস্টে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) বাতিল এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লি–সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদে সরব বিরোধী দলগুলি, সঙ্গে একাধিক ছাত্র সংগঠন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এর মধ্যে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনাকে ঘিরে৷ সূত্রের দাবি, নবরাত্রি শেষ হলেই আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশের লক্ষ্যে ডাকা হতে পারে সংসদের বিশেষ অধিবেশন৷
এই দু’টি বিল পাশের জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত সাংসদের সমর্থন থাকবে— এ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই নেওয়া হতে পারে অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত৷ ১৩ অগস্ট সংসদের বাজেট অধিবেশন ‘সাইনে ডাই’ করা হলেও এখনও পর্যন্ত তার পরিসমাপ্তি (প্ররোগড) ঘোষণা করা হয়নি৷চলতি বছরের এপ্রিলে দু’টি বিল পাশের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েও ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার৷ কারণ, তারা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেনি৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটে যথাক্রমে তৃণমূল ও ডিএমকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলেছে। ভেঙে খানখান হয়েছে তৃণমূল৷ দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন৷ আবার লোকসভায় ২২ এবং ৮ জন রাজ্যসভা সাংসদ সম্বলিত ডিএমকে ইতিমধ্যেই ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করেছে৷
সূত্রের দাবি, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন সে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক এখন খারাপ নয়৷ তারা কেন্দ্রের সংবিধান সংশোধনী বিলে সরকারকে সমর্থন জানাতে পারে বলে আশা পদ্ম–নেতৃত্বের৷ এ ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন সদ্য–পদত্যাগী কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগন৷ কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ পদেও ইস্তফা দিয়েছেন মুরুগন৷
আরও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার পক্ষ। তাদের আশা, শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র (শরদ) ৮ জন সাংসদের সমর্থনও তারা পাবে। তবে সূত্রের দাবি, শরদের দল শর্ত দিয়েছে, প্রতি রাজ্যের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়াতে হবে। সরকারি সূত্রেরও বক্তব্য, শরদের সঙ্গে স্ট্যালিনের ডিএমকে-রও সমর্থন পেতে মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিলে লিখে দিতে রাজি যে, লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে রাজ্য পিছু লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। একই ভাবে সরকার শিবসেনার (ইউবিটি) গোষ্ঠীর ছ’জন সাংসদের সমর্থন পেতে পারে৷ যদিও জ্ঞানেশ ইস্যুতে প্রতিবাদে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে এনসিপি (শরদ) ও ডিএমকে–ও৷ ডিএমকে–র (শরদ) সঙ্গে কংগ্রেসের টানাপড়েন চললেও ‘সার’ ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর অবস্থানকে কিছু দিন আগে সমর্থন জানিয়েছে স্ট্যালিনের দল। আবার এনসিপি–র (শরদ) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেকে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে দেখা গিয়েছে একাধিকবার।
এখন লোকসভায় ৫৪০ জন সাংসদ আছেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩৬০ জনের সমর্থন দরকার। তৃণমূল, উদ্ধবের শিবসেনায় ভাঙন ধরানোর পরে এনডিএ ৩১৯-এ পৌঁছে গিয়েছে। শরদের এনসিপি ও ডিএমকে সমর্থন করলে এনডিএ ৩৪৯-এ পৌঁছে যাবে। ফলে অল্প কয়েকটি ভোটের প্রয়োজন হবে। রাজ্যসভাতেও আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের ভাঙনের ফলে এনডিএ ১৫৫-য় পৌঁছে গিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৬৩টি ভোট দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাওয়ার–স্ট্যালিনদের দল আগামীতে কী করে, তার উপরেই নির্ভর করছে মোদী সরকারের পরবর্তী রণকৌশল।
