কালবেলা · স্বাস্থ্য
প্রাণহানি বাড়ছে, খাবার ফুরোচ্ছে, ভেঙে পড়ছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা
১৪/১০/২০২৬

ইয়েমেনে যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৮ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি মানবিক সহায়তা। খাদ্য সরবরাহ কমে আসায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বুধবার (১৪ অক্টোবর) জানায়, ইয়েমেনের মারিব, তাইজ ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রের আঘাতে আহত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে এক সপ্তাহে ৭০০ জনের বেশি আহত রোগী ভর্তি হয়েছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আইসিআরসির স্বাস্থ্যবিষয়ক সমন্বয়ক ফেরাস আবুসামরা বলেন, যুদ্ধাহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইয়েমেনের চালু থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর খুব অল্পসংখ্যকই গুরুতর আহতদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে পারে। হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, অ্যানেসথেশিয়া, অক্সিজেন ও ওষুধের ঘাটতিও রয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও রোগের প্রাদুর্ভাবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই বিপর্যস্ত। লড়াই আরও তীব্র হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হারাতে পারে দেশটির হাসপাতালগুলো।
খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজসহ সংঘাতকবলিত বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮ লাখ মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। বর্তমানে লড়াই থেকে পালিয়ে আসা সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজে।
ডব্লিউএফপি জানায়, সংঘর্ষ ও সড়ক বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। গমের আটার মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। স্থানীয় বাজারে যে সামান্য খাবার অবশিষ্ট রয়েছে, তা-ও অল্প সময়ের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে।
ইয়েমেনে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এল-খিদির দালুম বলেন, নিরাপদে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗