সিলেট শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গেলেই নগরজীবনের ব্যস্ততা অনেকটা পেছনে পড়ে যায়। চারপাশের পরিবেশে আসে পরিবর্তন। পাহাড়, সবুজ বনানী আর নিরিবিলি আবহের মধ্যে হজরত শাহ পরাণ (রঃ)- এর পবিত্র মাজারের সন্নিকটে গড়ে ওঠেছিল জাকারিয়া সিটি বর্তমানে যেটি ‘এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’Ñ যা’ আন্তর্জাতিকমানের বিনোদন ও অবকাশযাপনের জন্যে তৈরি একটি বড় পরিসরের রিসোর্ট।
সম্প্রতি পরিবার নিয়ে জাকারিয়া সিটি অর্থাৎ, এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, শহরের কাছাকাছি থেকেও যারা কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্যে রিসোর্টটি বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে।
পাহাড়ের ওপর বিস্তৃত রিসোর্টটির বিভিন্ন অংশে রয়েছে ছোট-বড় কটেজ। চারপাশের বৃক্ষরাজি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রিসোর্টটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র আবহ। কংক্রিটের শহর থেকে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে এমন পরিবেশে হাঁটাহাঁটি কিংবা অবসর কাটানোর মধ্যে আলাদা এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়, যা অনুভবে অনুরণিত হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন ধরে।
‘পূর্বতন জাকারিয়া সিটি যা’ বর্তমানে ‘এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্স’- এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑ এটি বিস্তৃত পরিসরের। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক সুইমিং পুলসহ বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা। পরিবার নিয়ে গেলে শিশু-কিশোরদের সময় কাটানোর জন্যেও রয়েছে সুইমিংপুলসহ বিনোদন উপভোগ করার যথোপযুক্ত আলাদা ব্যবস্থা। এমনকি, এখানে রয়েছে নজরকাড়া একটি হেলিপ্যাড। এ ছাড়াও, যারা কর্মব্যস্থতার ফাঁকে স্বল্প সময় অবস্থান করতে চান, তাদের জন্যেও আলাদা কটেজের সুব্যবস্থা রয়েছে।
প্রায় ৬০ বিঘা জায়গাব্যাপী এ মনোরম বিশাল রিসোর্টটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলোÑ বড় পরিসরে অনুষ্ঠান বা সভা আয়োজনের সুযোগ। এখানকার হলঘরে একসঙ্গে প্রায়
৬০০ মানুষের বসে মিটিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে করপোরেট অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার কিংবা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যও রিসোর্টটি যথোপযুক্ত আনন্দের।
দিন ও রাতের সঙ্গে জাকারিয়া সিটি অর্থাৎ, এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের রয়েছে পরিবেশগত আলাদা বৈশিষ্ট্য। পাহাড়ের নীরবতার মধ্যে রাতের আকাশ, চাঁদের আলো, চারপাশের শান্ত পরিবেশ এবং রিসোর্টের চারদিকে লাল-নীল-সবুজ বাতির আলো সেখানে অবস্থানকারীদের ভিন্ন এক শিহরিত অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। শহরের ব্যস্ততার বাইরে পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে এমন পরিবেশে কিছু সময় কাটানো অনেকের কাছেই উপভোগ্য হতে পারে, যা জীবনে কখনো ভোলার নয়।
তবে আমার কাছে জাকারিয়া সিটি মানে এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, এর অতিথিসেবা। একটি রিসোর্টের অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক পরিবেশ যতোই আকর্ষণীয় হোক, অতিথির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণও অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে গিয়ে নিজের চোখে দেখেছি, রিসোর্টটির বর্তমান মালিক ও চেয়ারম্যান মি. রাহাত চৌধুরী মুন্না মাঝেমধ্যে নিজে এসে অতিথিদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। অতিথিরা কেমন আছেন কিংবা কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি নাÑএমন বিষয়ে মালিকপক্ষের সরাসরি নজর রাখা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটি দিক।
বর্তমান সময়ে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলে নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। জাকারিয়া সিটি বর্তমান এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক মি. রাহাত চৌধুরী মুন্নার নিরহংকার মিষ্টি ব্যবহার এবং সরাসরি তদারকি আর হোটেল স্টাফদের দায়িত্ব-জ্ঞানসম্পন্ন সেবাদান অবশ্যই অতিথিদের নিরাপত্তায় বিশেষ স্বস্তির কারণ।
সিলেটের পর্যটন বলতে সাধারণত; জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লাক্কাতুরা কিংবা চা-বাগানের কথা সামনে আসে সবার আগে। এর পাশাপাশি শহরের আশপাশে গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলোও স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করছে। কর্মব্যস্ত মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি না দিয়েও প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। জাকারিয়া সিটি বর্তমান এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টটি পাহাড়ি পরিবেশ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলতান, বানরের লাফালাফি, হাজার হাজার রকমারি বিশালাকার গাছের সুশীতল ছায়ায় যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের আধার! তাছাড়া, নান্দনিক কটেজ, সুইমিং পুল, বড়ো পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের সুবিধা সর্বোপরি অতিথিসেবায় নিঃসন্দেহে আলাদা এক বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে এটি। বিশেষ করে সিলেট শহর থেকে খুব বেশি দূরে না হওয়ায় স্বল্প সময়ের অবকাশযাপনের জন্যে রিসোর্টটি বিবেচনায় আসতে পারে সর্বাগ্রে। আমার এ ভ্রমণ ছিল নিছক পরিবার নিয়ে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো। এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একটি ভালো অবকাশযাপনের জায়গার জন্যে শুধু সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন শান্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা, থাকার সুব্যবস্থা, বিনোদনের সুযোগ এবং অতিথির প্রতি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা। আলোচিত এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এসব বিষয়ের সমন্বয়ের যে চেষ্টা ও উদ্যোগ চোখে পড়েছে, তা’ এটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
সিলেট শহর থেকে মাত্র কিছুটা দূরে পাহাড়ের নীরবতা ও সবুজের আবহে কয়েক ঘণ্টা কিংবা কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগেÑনগরজীবনে অভ্যস্ত মানুষের কাছে এ রিসোর্টটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় হতে পারে। এর অতিথি হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, রিসোর্টটির মালিক ও চেয়ারম্যান মি. রাহাত চৌধুরী মুন্নার নিয়মিত অতিথিদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টি। একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ যখন সেবার মান, নিরাপত্তা ও অতিথির স্বস্তির বিষয়টি সরাসরি নজরে রাখেন, তখন সেখানে আস্থার একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।
প্রকৃতি ও অবকাশের এই সমন্বয়কে আরও সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যতে জাকারিয়া সিটি অর্থাৎ, ‘এক্সেলসিওর সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-টি বৃহত্তর সিলেটের স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদন খাতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেÑ এমন প্রত্যাশা করতেই পারি।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট, ঢাকা
