বোলিংয়ে রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর নৈপুণ্য, এরপর ব্যাট হাতে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিং—সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৯৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে আফগানরা।
ফাইনালে টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে ১৬৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় জিম্বাবুয়ে।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রশিদ খান। তিনি ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবী শিকার করেন ২ উইকেট। এ ছাড়া ফজলহক ফারুকি ২টি এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও বিলাল সামি একটি করে উইকেট নেন। শুরুতেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন আফগান বোলাররা। একপর্যায়ে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। পরে সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের প্রতিরোধে ইনিংস কিছুটা এগোলেও শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রানেই থামে তাদের লড়াই।
জবাবে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে আফগানিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান ৪৭ বলে ৫০ রান যোগ করেন। গুরবাজ ৩৬ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয়ের পথ সহজ করেন ইব্রাহিম।
পরে রহমত শাহর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। রহমত ৬৩ বলে ৪৩ রান করে ফিরলেও ইব্রাহিম ছিলেন অবিচল। শেষ পর্যন্ত ৯৬ বলে ৭০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। তাঁর সঙ্গে দলের জয় নিশ্চিত হয় ৩৪.৩ ওভারে, মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে।
এর আগে লিগ পর্বেও জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল আফগানিস্তান। ফাইনালে আবারও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিল দলটি। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এই জয় আফগানিস্তানের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল।
এমএ
