পিন্টু অধিকারী, মাধবপুর : হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাটে মাদক কেনাবেচা ও সেবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদকের কারণে পারিবারিক অশান্তি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
সম্প্রতি মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবারের অভিযোগের পর এক যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার সাতিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে মো. আশিক মিয়া (১৯) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবার ও এলাকাবাসীর শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছিলেন। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। এ সময় আশিকের মা অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড ও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় শান্ত স্বভাবের যুবক হিসেবে পরিচিত আশিক ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ইয়াবা ও ফেনসিডিলে আসক্ত হওয়ার পর তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে। মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তির কারণে একটি পরিবারে কীভাবে অশান্তি নেমে আসতে পারে, আশিকের ঘটনা তার উদাহরণ।
চুনারুঘাট ও মাধবপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত এক মাসে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘মাদক ছাড়ো, নয়তো এলাকা ছাড়ো’ স্লোগান সামনে রেখেও প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু সভা-সমাবেশ ও স্লোগানে মাদকের বিস্তার রোধ করা কঠিন। মাদক সরবরাহ ও বিক্রির উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ পারুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক নির্মূলে তাঁরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
চুনারুঘাটের সাবেক পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন শামসু বলেন, মাদক চুনারুঘাটের একটি ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর ছোবলে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদকের বিস্তারের সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের উদ্বেগও বাড়ছে। জমির ফসল, পুকুরের মাছ, টিউবওয়েল, সাবমার্সিবল পাম্প, দোকানের মালামাল ও গাছ চুরির মতো ঘটনা তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের উৎস বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে। তবে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশের পাশাপাশি সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে।
