ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনে সুপ্রিম কোর্টের কোনও অনুমোদন ছিল না। এ কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বার ওই মন্তব্যের আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, বিহারের এসআইআর মামলার রায়ের সময়ে নতুন ফর্ম ৬-এর প্রসঙ্গ খতিয়ে দেখা হয়নি। কারণ, সেই মামলায় এর কোনও অস্তিত্বই ছিল না। ফলে এ বিষয়ে কোনও অনুমোদন দেওয়া বা না-দেওয়া— কিছুই করেনি আদালত। এর বৈধতার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি আদালত, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। গত সোমবার ওই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি কান্ত জানিয়েছিলেন, ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিল, ফর্ম ৬ আবেদনের সঙ্গে ভোটারদের যে ঘোষণাপত্র দিতে হয়েছে, তা বহাল রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালতের মন্তব্যে কমিশনের ওই দাবিকে নস্যাৎ হয়ে যায় বলে মনে করা হয়।
আইনি খবর পরিবেশনকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ অনুযায়ী, এ দিন অন্য এক মামলার শুনানির সময়ে বিষয়টি মৌখিক ভাবে আরও স্পষ্ট করে দেয় আদালত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠছে, তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা করেছেন প্রিয়া মিশ্র নামে এক মহিলা। সোমবার তাঁর মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। সেখানে মামলাকারীর আইনজীবী নতুন ফর্ম-৬ সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন। আইনজীবী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে, (নতুন) ফর্ম-৬ আদালত অনুমোদিত নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলেছে, এটি সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত। এই বিষয়টি আমি জানতে চাইছি।”
আইনজীবীর ওই কথার প্রেক্ষিতে বিচারপতি বাগচী বলেন, “নতুন ফর্ম ৬-এর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা শুধু এটুকুই বলেছি।” এর পরে বিচারপতি বাগচী আরও ব্যাখ্যা করেন, “প্রধান বিচারপতি আসলে বলেছেন— যখন বিহারে এসআইআর-এর রায় দেওয়া হয়েছিল, তখন মামলায় নতুন ফর্ম ৬-এর প্রসঙ্গই ছিল না। এর মানে এতে অনুমোদন দেওয়া বা না-দেওয়া— কোনওটাই করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আমরা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে মামলাটির শুনানি আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যস্ত স্থগিত রেখেছে আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটিও একই সঙ্গে শোনা হবে।
ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করে আর্জি জানাতে হয়। এসআইআরের সময় নতুন ভোটারদের ফর্ম ৬-এর সঙ্গে দেওয়া অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রে জানাতে হয়েছে, আগের এসআইআরে তাঁদের নিজের, বাবা-মা বা পিতামহ বা পিতামহীর নাম ছিল কি না। সেই নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফর্ম ৬-এর বদল নিয়ে আপত্তি ছিল দু’জন নির্বাচন কমিশনারের।
