সংবাদ · দেশ
রাষ্ট্রের শক্তি: এলিয়েদা থেকে সৌদিতে দুই বাংলাদেশি
২১/১০/২০২৬

মার্কিন তরুণী এলিয়েদা ম্যাকর্ড। জন্ম টেক্সাসের হিউস্টনে ১৯৭৩ সালে। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৮ বছর বয়সে আসেন বাংলাদেশে। তৎকালীন ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে যাত্রার আগে আটক হন। তার পোশাকের নিচে লুকানো চার প্যাকেটে প্রায় সাড়ে তিন কেজি হেরোইন পাওয়া যায়।পরে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেমের আদালতে হেরোইন পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মাদক মামলা হয়। বিচারে তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়। অবশ্য পরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ও মার্কিন কংগ্রেসম্যানের তদবিরে মুক্তি পান। ম্যাকর্ড স্বীকার করেছিলেন, প্রায় ১০ হাজার ডলারের প্রলোভনে তিনি হেরোইন বহনে রাজি হয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে সাহায্য করা। চাঞ্চল্যকর সেই মামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় এনেছেন সিনিয়র সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু। ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন,‘মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার পর থেকেই ঢাকায় তাদের দূতাবাস সব রকমের সহায়তা করে যায়। প্রচলিত আইন, মাদক বহন আর আসামির স্বীকারোক্তি থাকায় তেমন কিছু করতে পারছিল না। তবে কারাগারে বিশেষ মর্যাদা আদায় করতে পেরেছিল।’
জায়েদুল আহসান আরও লেখেন, ‘এলিয়েদার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যখন চূড়ান্ত রায় দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে মুক্ত করার নতুন উদ্যোগ নেয়। তারা এলিয়েদাকে দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করায়। তৎকালিন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এলিয়েদার দণ্ড মওকুফ করে দেন।’পিন্টুর লেখায় আর এসেছে, ‘৩০ জুলাই, ১৯৯৬। দিনের প্রথমভাগে মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল রিচার্ডসন বিশেষ বিমানে বাংলাদেশে আসেন। (এই মার্কিন জনপ্রতিনিধি তার দেশের মেয়েকে বাঁচানোর জন্য শুরু থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।) ওইদিন সকালে জেল কর্তৃপক্ষ এলিয়েদাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালেয়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও ছিলেন। তারা এলিয়েদাকে রিচার্ডসনের ক্ষণিকের আবাসস্থল রাস্ট্রীয় অতিথিভবন মেঘনায় নিয়ে যান। সন্ধ্যায় বিল রিচার্ডসন এলিয়েদাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। যাবার আগে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারা সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।‘তার পোস্টে আরও লেখেন, ‘ওই যে, গুডি ওচিন্ডো। যিনি একই মামলায় খালাস পেয়েছিলেন। পাসপোর্ট সংক্রান্ত মামলায় দুই মাসের জেল হয়েছিল। তার খবর আর কেউ রাখেনি। দুই মাস পার হয়, দুই বছর পার হয় কিন্তু গরীব নাইজেরিয়ানের মুক্তি মিলে না। এই তরুণ তার বাংলাদেশি আইনজীবীর কাছে ১৪২১ ডলার জমা রেখেছিলেন। সেই আইনজীবী ওই ডলার আর ফেরত দেন না।’আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন দশক আগের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, এলিয়েদা ম্যাককর্ডের মুক্তিতে মার্কিন কূটনীতি ও জনপ্রতিনিধির তৎপরতা, গুডি ওচিন্ডোর মুক্তিতে সাংবাদিকতা ও আদালতের ভূমিকায় একটা বার্তা আছে।ঠিক যেভাবে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বাংলাদেশ জানতে পেরেছে ঘটনার অনেক পরে।ঘটনা তিনটি দেখায়, বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকের পাশে রাষ্ট্র কতটা দাঁড়ায়, তার ওপরও নির্ভর করে ন্যায়বিচারের বাস্তবতা।
বিদেশের কারাগারে বন্দী একজন মার্কিন তরুণীর মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একজন কংগ্রেসম্যান ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে। দূতাবাস সক্রিয় ছিল, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন পৌঁছেছিল, শেষ পর্যন্ত বিশেষ বিমানে দেশে ফিরেছিলেন সেই তরুণী। অথচ, একই মামলায় দণ্ডিত আরেক বিদেশি তরুণের মুক্তির জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর তার কথা সামনে এনেছিল সাংবাদিকতা; হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ফিরতে পেরেছিলেন নিজ দেশে।ঘটনা দুটি বাংলাদেশের। সময় ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০১ সাল। আর ২০২৬ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে: বিদেশে কোনো নাগরিকের জীবন যখন রাষ্ট্রের হাতে নয়, তখন তার পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বটি কে পালন করে?প্রতীকী ছবিসৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি।পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এই তথ্যই প্রশ্ন তুলেছে—বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা নাগরিকদের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নজরদারি কতটা কার্যকর?এলিয়েদার মুক্তিতে রাষ্ট্রের সক্রিয়তামাদক পাচারের মামলায় ১৯৯৩ সালের জুলাইয়ে এলিয়েদাকে আর নাইজেরীয় নাগরিক রবার্ট ব্ল্যাংকসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। এলিয়েদার ঘটনা তখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচিত হয়। প্রথম দিকে তিনি দাবি করেছিলেন, মাদকের বিষয়ে না জেনেই প্যাকেট বহন করেছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালে মুক্তির পর তিনি স্বীকার করেন, অর্থের বিনিময়ে হেরোইন বহনে রাজি হয়েছিলেন। অর্থাৎ, তার মুক্তির প্রশ্নটি কেবল নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার বিষয় ছিল না; দণ্ডিত একজন নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র কীভাবে মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়, সেটিই ছিল বড় বিষয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১৯৯৬ সালের জুলাইয়ের শুরুতে তার দণ্ড বহাল রাখে। এরপর ক্ষমার আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগ শুরু হয়।নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান বিল রিচার্ডসন বাংলাদেশে এসে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ১৯৯৬ সালে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এলিয়েদার মুক্তি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার বাইরে কোনো গোপন পথে হয়নি। আদালতের রায় বহাল ছিল; মুক্তি এসেছিল রাষ্ট্রপতির ক্ষমার সাংবিধানিক পথ ধরে। কিন্তু সেই পথ সক্রিয় করতে পেরেছিল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ধারাবাহিক যোগাযোগ, দূতাবাসের তৎপরতা আর একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত উদ্যোগ।ব্ল্যাংকসনের পাশে কেউ নেইএলিয়েদার সঙ্গে একই মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছিলেন নাইজেরীয় নাগরিক রবার্ট ব্ল্যাংকসন। তার ভাগ্যে একই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোটেনি। তার পরবর্তী পরিণতি নিয়েও জনপরিসরে তথ্য খুব কম। একই মামলায় অভিযুক্ত আরেক নাইজেরীয় তরুণ গুডি ওচিন্ডোর অভিজ্ঞতা আরও নির্মম বৈপরীত্য সামনে আনে।গুডি ছিলেন ১৯ বছরের তরুণ। মূল মাদক মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন বলে তৎকালীন প্রতিবেদকের বিবরণে উঠে আসে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ব্যবহারের একটি মামলায় দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার পরও তিনি মুক্তি পাননি। তার দেশে ফেরার ব্যবস্থা ছিল না, টিকিট কেনার টাকাও ছিল না। বাংলাদেশি আইনজীবীর কাছে রাখা ১ হাজার ৪২১ ডলার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন মামলা হওয়ায় তার দুর্দশা আরও বাড়ে। মামলার শুনানি না হওয়ায় মুক্তির পথও বন্ধ হয়ে যায়।
কারাগারে পাঁচ বছরের বেশি সময় কাটানোর পর কারা কর্মকর্তা ফরমান আলী বিষয়টি প্রতিবেদকের নজরে আনেন। ২০০১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার-এ গুডিকে নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন সিনিয়র সাংবাদিক জায়েদুল আহসান।ওই দিনই হাইকোর্ট বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। আদালতের হস্তক্ষেপের পর নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়।এখানে বৈপরীত্যটি স্পষ্ট। ম্যাককর্ডের জন্য দূতাবাস ও কংগ্রেসম্যান সক্রিয় হয়েছিলেন; গুডির ক্ষেত্রে তার দুর্দশা জনসমক্ষে আনতে হয়েছিল সাংবাদিককে, আর মুক্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়েছিল আদালতকে। একজনের পেছনে ছিল শক্তিশালী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতা, অন্যজনের পেছনে ছিল না কার্যকর কোনো রাষ্ট্রীয় সহায়তা।সৌদি আরবের ঘটনায় বাংলাদেশের প্রশ্ন২০২৬ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশন আগে থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না। মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা ও বিচারসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে।এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ, আপিলের অবস্থা এবং কনস্যুলার সহায়তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো সব নথি প্রকাশ্যে নেই। তাই এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য জরুরি।
বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া নাগরিকের বিচার থামিয়ে দেওয়া বা অন্য দেশের আদালতের রায় বাতিল করানো কোনো দূতাবাসের ক্ষমতা নয়। তবে নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, তিনি আইনজীবী পেয়েছেন কি না, তার আত্মপক্ষ সমর্থন ও আপিলের সুযোগ আছে কি না, মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির আগে পরিবার ও নিজ দেশের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।কনস্যুলার সুরক্ষার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইনও প্রাসঙ্গিক। ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনসের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক আটক হলে তিনি অনুরোধ করলে তাকে নিজের দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হয়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সে যোগাযোগে সহায়তা করতে হয়। তবে এই বিধান কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে তারা কনস্যুলার যোগাযোগ চেয়েছিলেন কি না—তা নির্ধারণে মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।দুই বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীর মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা পরে জেনেছে কনস্যুলেটবাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ; সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। ফলে বিষয়টি শুধু দুই ব্যক্তির ভাগ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে কর্মরত নাগরিকের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি ও নজরদারির প্রশ্ন এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।রাষ্ট্র কি ভাগ্য নির্ধারণ করেএখানে ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র’ বলতে শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি বোঝালে চলবে না। রাষ্ট্রের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকের জন্য কত দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, আইনগত সহায়তা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ম্যাককর্ডের ক্ষেত্রে সেই সক্ষমতা দেখিয়েছিল। গুডি ওচিন্ডোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও আদালতকে এগিয়ে আসতে হয়েছিল।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি শুধু সৌদি আরবকে ব্যাখ্যা দিতে বলার মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না। মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে দূতাবাস কীভাবে আগেভাগে তথ্য পাবে, কারাগার ও আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, পরিবারকে জানাবে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করবে—তার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। কোনো নাগরিক অপরাধে দণ্ডিত হলেও তার ন্যায্য বিচার ও আইনি অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।এলিয়েদার ঘটনা দেখিয়েছে, দণ্ডিত নাগরিকের ভাগ্য বদলাতে কূটনীতি ও জনপ্রতিনিধির উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে। গুডি ওচিন্ডোর ঘটনা দেখিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা না থাকলে একজন মানুষ কীভাবে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার মধ্যে হারিয়ে যেতে পারেন। আর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—নিজের নাগরিকের জীবন-মৃত্যুর মতো বিষয়ে বাংলাদেশ কতটা আগে জানতে পারে, কতটা পাশে দাঁড়াতে পারে?রাষ্ট্রের মর্যাদা কেবল বিদেশি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতায় মাপা যায় না। সেই সম্পর্কের ভেতর নিজের নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা কতটা রক্ষা করা গেল, সেটিও তার বড় পরীক্ষা।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗