ফরিদপুর জেলা পরিষদ দেশের সর্বপ্রথম সফলভাবে ৬০ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দিতে শুরু করেছে।
দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করা হয়েছে। এতে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় ৪০ কিলোওয়াট চাহিদা মিটিয়ে বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ভবনের ছাদে স্থাপিত এই সোলার প্যানেল সিস্টেমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। উদ্বোধনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড আগামী ২০ বছর এটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকে জেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি সম্পর্কে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, ‘দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করে সফলভাবে এই প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরই প্রথম জেলা পরিষদ, যারা সোলার সিস্টেম চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন প্রায় ৪০ কিলোওয়াট, বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমরা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করব।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
