বাগেরহাটে পাসপোর্ট অফিসে আগুন, বন্ধ স্বাভাবিক কার্যক্রম
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে সার্ভার কক্ষের এভিআর মেশিন (অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর)। বন্ধ রয়েছে সেবা প্রদানসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনব্যাপি সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন অনেকেই।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে সার্ভার কক্ষে থাকা ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে আগুনের বিষয়টি টের পান কর্মকর্তারা।
তাৎক্ষণিকভাবে সার্ভার কক্ষ খুলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আগুনে সার্ভার, কম্পিউটার বা অন্যকোনো যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে এভিআর মেশিন নষ্ট হওয়ায় সোমবার সারাদিনই সেবা প্রদান কার্যক্রম অর্থাৎ পাসপোর্টের ছবি তোলা, আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। ওভারলোডের কারণে এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এভিআইর মেশিনটি সংস্কার করতে দেওয়া হয়েছে। এটি ঠিক হলে আগামী রবিবার থেকে পুনরায় সেবা প্রদান করা যাবে।
মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার পূজার ছুটি এবং শুক্র-শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা তেমন ভোগান্তিতে পড়বেন না বলে জানান বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, মূলত লোডশেডিং শেষে যখন বিদ্যুৎ আসে তখন লোডের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। যার কারণে এ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এভিআর মেশিন পুড়ে গেলেও, সার্ভার কক্ষের অন্যকোনো যন্ত্রপাতি বা ডকুমেন্টসের ক্ষতি হয়নি। এভিআইর মেশিনটি সংস্কার করতে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ২৫ অক্টোবর থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
নাহিদ/নাঈম
আরও পড়ুন
সুস্থভাবে বাঁচতে চোখের যত্ন জরুরি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: খবরের কাগজ
-->সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চোখের যত্নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, শুধু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাই নয়, কত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চোখের স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিশন স্প্রিং ও গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাজিদা ফাউন্ডেশন এ ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা দেওয়া, ছানি রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোতে স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদেরও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। চোখের সমস্যা পড়াশোনা, স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চোখের রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক।
বক্তারা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিনামূল্যের এ ধরনের ক্যাম্প সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
মো. নেয়ামুল আহসান/রিফাত/
আরও পড়ুন
মেয়েদের নেতৃত্বে আনতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: চিফ হুইপ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রজননক্ষমতা ও কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো ও উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেয়েরা যেন শিক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে পারে, আমাদের সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিশোরীদের সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে।’
বক্তব্যে পাথরঘাটায় মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন চিফ হুইপ।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ‘স্ট্রেংদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ’ (SPCPD) প্রকল্প, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আ ন ম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত ই খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মো. আল মামুনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মহিউদ্দিন/এএফ
আরও পড়ুন
সৌদিতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
নজরুলের মা রহিমা বেগম। ছবি: খবরের কাগজ।
-->জেলখানা থেকে প্রতি রবিবার মা রহিমা বেগমকে ফোন করতেন ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫)। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবরও কথা বলেছিলেন মায়ের সঙ্গে। কিন্তু তখনো নজরুল জানতেন না, ৩ দিন পরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে সৌদি আরবের বিচার বিভাগ।
মসজিদ কম্পাউন্ডে বাংলাদেশি আরেক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর নজরুলের শিরশ্ছেদ করা হয়। একই অভিযোগে আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় সিতি আক্তার নামে ওই তরুণীরও। তবে ওই তরুণীর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ অক্টোবর রাতে মারা গেছেন তার ফুফু আবেদা বেগম। নজরুলকে ছোটবেলা থেকেই আদর-যত্নে বড় করেছেন তিনি।
নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির সন্তান। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার বড়। তার উপার্জনেই চলত সংসার।
সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সৌদি আরব যান নজরুল। সেখানে মক্কা নগরীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। তবে সৌদি আরবে যাওয়ার ছয় মাস পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। মসজিদ কম্পাউন্ডে তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড দেন দেশটির আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিন বছরেরও বেশি সময় কারান্তরীণ ছিলেন নজরুল।
নজরুলের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হতদরিদ্র পরিবারটি। পুত্রশোকে মুহ্যমান বাবা আব্দুল বাছির। কীভাবে এখন পরিবার চলবে, তা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন মা রহিমা বেগম।
নজরুলের মৃত্যুদণ্ড মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে আইনি সহায়তা নিশ্চিত না করেই অনেকটা তড়িঘড়ি করে নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
নজরুলের সহপাঠী মো. মাহফুজ বলেন, ‘জেলখানা থেকে তাকে ফোন করেছিলেন নজরুল। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ঘটনাস্থলে নজরুল উপস্থিত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তা ছাড়া, ভাষাগত জটিলতার কারণেও তিনি নির্দোষ, তা প্রমাণ করতে পারেননি।’
নজরুলের প্রতিবেশী ও সৌদি প্রবাসী মো. আনোয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশি বলেই সৌদি সরকার এ কাজটি করতে পেরেছে। যদি আমেরিকা, ভারত অথবা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের নাগরিক হতেন, তাহলে হয়তো মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে বহুবার চিন্তা করত।’
নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি, এই রবিবার আমার সন্তানের জীবনের শেষ রবিবার হবে। আমরা মনে করেছি, যেহেতু তিন বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে, হয়তো পাঁচ বছর হলে আমার ছেলেকে দেশে পাঠিয়ে দেবে। আমি শেষবারের মতো আমার ছেলেকে দেখতে চাই, একবার ওর লাশটা ছুঁয়ে দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যেন আমার ছেলের মরদেহ ফিরিয়ে আনে এবং আমাদের সহযোগিতা করে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ দেশে আনার জন্য এবং তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে জেলা প্রশাসন।
আজিজুল সঞ্চয়/রিফাত/
আরও পড়ুন
সাঙ্গু নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
বিষ প্রয়োগ পরবর্তী মাছ শিকারে ব্যস্ত শত শত মানুষ। ছবিটি সোমবার দুপুরে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় রাতের আঁধারে সাঙ্গু নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর মাছ ও জলজ উদ্ভিদ মরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাতকানিয়ার পুরানগড়, বাজালিয়া ও চন্দনাইশের দোহাজারী, ও ধোপাছড়ি এলাকায় সাঙ্গু নদীতে শত শত মানুষকে জাল নিয়ে মাছ ধরতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, ধোপাছড়ি অংশে বিষ প্রয়োগের পর নদীর পানির স্রোতে তা চন্দনাইশের ধোপাছড়ি হয়ে সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নদীর জলজ প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
মাছ শিকার করতে আসা নবী হোসেনের দাবি, বিষের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়া মাছ সহজেই জালে ধরা পড়ছে। ফলে অল্প সময়েই অনেকে বেশ ভালো পরিমাণ মাছ পেয়েছেন। তবে মাছ ধরার এই দৃশ্যের আড়ালে নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের মৎস্য চাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, অসাধু ব্যক্তিরা চিংড়ি মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে নদীতে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষের প্রভাব কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে, তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাঙ্গু নদীতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে। এমনকি নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মৎস্য কার্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আব্দুল আজিজ নামে এক যুবক বলেন, নদীতে অবৈধভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। কয়েক মাস পর পর বিষ প্রয়োগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাঙ্গু নদীর মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তানবীর আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তায় তিনি প্রতিবেদকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে মিটিংয়ে থাকার কথা জানান।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, আমি একটি অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম নগরীতে ফিরছি। সাঙ্গু নদীতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি এখনো পর্যন্ত কেউ আমাকে জানাননি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম
