দিল্লিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছেন অখিলেশ যাদব, রাহুল গান্ধী। ইন্ডি জোটের যে কোনও বৈঠকে হাজির থাকছেন রামগোপাল যাদব। যে কোনও সময় অখিলেশ যাদবকে প্রশ্ন করুন তিনি সাফ বলে দেবেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির জোট অটুট ছিল, অটুটই থাকবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আসনরফার প্রশ্নে গিয়ে দুই শিবিরের ঠান্ডা লড়াই যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে কংগ্রেসের মূল ভরসা সমাজবাদী পার্টি। সে রাজ্যে কংগ্রেস এখন এতটাই দুর্বল যে দলের নেতারা জানেন, জোট না গড়লে বিজেপির বিরুদ্ধে সঠিকভাবে লড়াই করাও সম্ভব নয়। আবার জোট গড়তে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। এই পরিস্থিতিতে জোটের লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। হাত শিবির যেমন চাইছে জোটে লড়াই করে বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে আবার তেমনই চাইছে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করতে। বছরের পর বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা ‘হীনমনা’ কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফুঁকতে। অন্তত রাজ্যের সব প্রান্তে যাতে তাঁদের উপস্থিতি থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে। সেকারণেই সমাজবাদী পার্টির কাছে জোটের জন্য ১৭৫-২০০ আসন চাইছে হাত শিবির।
প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস ১৬৫ আসনের একটি তালিকা বানিয়েছে। শেষ ৩ বিধানসভা নির্বাচনে এবং ২০২৪ লোকসভা নিরবাচনের নিরিখে তালিকা তৈরি হয়েছে। ওই তালকায় ১০০টি আসন এ ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে। ৪০ আসন রাখা হয়েছে বি ক্যাটেগরিতে। এবং ২৫ আসন রাখা হয়েছে সি ক্যাটেগরিতে। সেই পরে সেই সংখ্যাটা আরও খানিকটা বাড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির কাছে ১৭৫ আসনের দাবি জানানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সমাজবাদী পার্টিকে আমরা ১৭৫-২০০ আসনের মধ্যে একটি তালিকা পাঠিয়েছি।”
সমস্যা হল, জোটে যে কংগ্রেস এত আসন চাইতে পারে, সেটা বিশ্বাসই করতে পারছে না সপা। সমাজবাদী বলছে, ভুলে গেলে চলবে না, গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ২ শতাংশ ভোটও পায়নি কংগ্রেস। আসন জিতেছিল মাত্র ২টি। এর আগে ২০১৭ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটে ১১৭ আসন লড়াই করে মাত্র ৭টিতে জিতেছিল। সেই দল এবার এত আসন চায় কোন যুক্তিতে? তাছাড়া শুধু উত্তরপ্রদেশ তো নয়, বিহারেও একইভাবে বেমক্কা আসনের দাবি করে জোটকে ডুবিয়েছে হাত শিবির। সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন, “আমাদের নেতা অখিলেশ যাদব তো স্পষ্টই করে দিয়েছেন, কে জিততে পারবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কে কত আসনে লড়বে সেটা নয়। যে কেউ যা খুশি চাইতেই পারে। কিন্তু আমাদের এবার একটা বাস্তবসম্মত জায়গায় পৌঁছতে হবে তো। অনেক তো হল আত্মপ্রচার।” সপার তরফে প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছিল কংগ্রেসকে ৫৩ আসন ছাড়া হবে। সেটা বড়জোর ৭৫ পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে অখিলেশের বক্তব্য, “যে দল যে আসনে জেতার মতো জায়গায় থাকবে, তাঁরাই সেই আসনে লড়বে।” প্রশ্ন হল, এই আসনরফা নিয়ে দড়ি টানাটানির ভবিষ্যৎ কী? আদৌ সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে তো দুই দল?
