জামালপুরে সড়ক সংস্কারের সময় গ্যাস পাইপ লাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস নির্গত হলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ এমনটি অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের শঙ্কা, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, জামালপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকার পরিচর্যা ক্লিনিক থেকে মুসলিমাবাদ জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ মিটার সড়ক ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কারের কাজ করে জামালপুর পৌরসভা। সংস্কার কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কের কয়েকটি জায়গায় মাটির নিচে থাকা তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আবাসিক সঞ্চালন সংযোগ পাইপে লিকেজ দেখা দেয়। এরপর থেকেই গ্যাস নির্গত হতে থাকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় এক মাস হলেও লিকেজ মেরামতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। খোলা জায়গায় অনবরত গ্যাস নির্গত হতে থাকায় পুরো এলাকা জুড়ে অগ্নিকাণ্ডের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় পথচারীদের অসাবধানতাবশত ফেলা দেশলাইয়ের কাঠি বা সিগারেটের আগুন থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে এমনটি আশঙ্কা তাদের।
এদিকে, ওই সড়কের পাশেই মুসলিমাবাদ সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও লিকেজের ফলে বাতাসে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ বলেন, “রাস্তাটির মেরামত কাজ শুরুর পর রোলার দিয়ে মাটি সমান করার সময় নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ ফেটে যেতে পারে। এরপর থেকেই এখান থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস বের হলেও এটা এখনো ঠিক করা হয়নি। আমরা আতঙ্কে আছি, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
আঙ্গুর নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। এ রাস্তা দিয়ে মানুষ সিগারেট পান করতে করতে যান। সিগারেটের আগুন থেকেও যে কোন সময় আগুন ধরতে পারে। বিশ্বাস না হলে একটা মেসের কাঠি ফেলে দেখেন। এখান দিয়ে এ লাইনের সব গ্যাস বের হয়ে যায়। ফলে আমরা বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ পাই না। আমরা এটা দ্রুত ঠিক করার দাবি জানাচ্ছি।”
আঙ্গুর নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। এ রাস্তা দিয়ে মানুষ সিগারেট পান করতে করতে যান। সিগারেটের আগুন থেকেও যে কোন সময় আগুন ধরতে পারে। বিশ্বাস না হলে একটা মেসের কাঠি ফেলে দেখেন। এখান দিয়ে এ লাইনের সব গ্যাস বের হয়ে যায়। ফলে আমরা বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ পাই না। আমরা এটা দ্রুত ঠিক করার দাবি জানাচ্ছি।”
নিরব হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা এ রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়, বিকেলে এখানেই খেলি। গ্যাসের কেমন জানি একটা গন্ধ বের হয়। মাঝে মাঝে শরীর চুলকায়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, “যে স্থানে পাইপ ফেটেছে সেখানে পানি থাকার কারণে এতদিন ঠিক করা যায়নি। আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করি এটা ঠিক হয়ে যাবে।”
