অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অকেজো করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। জাহাজগুলো হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এর জবাবে ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো ক্রু নিহত বা আহত হননি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার আগে ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারের ক্রুদের জাহাজ ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করেছে ইরানের এই বাহিনী।
নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
