বরিশালে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে ৪৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সর্বপ্রথম ক্লাস শুরু হয়।
আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এ দুটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাক্টর, সহকারী ইন্সট্রাক্টর, ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ এস. এম সামচুন নাহার।
নগরীর আলেকান্দার ঐতিহাসিক পরেশ সাগর মাঠের প্রবেশদ্বারে উত্তর পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। একটি ছয়তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, উত্তর পাশে ছয়তলা বিশিষ্ট বিশাল একাডেমিক ভবন ও দক্ষিণ পাশে ছয়তলা বিশিষ্ট আরেকটি একাডেমিক ওয়ার্কশপ ভবন রয়েছে।
ভবন তিনটিতে লিফটের ব্যবস্থা ছাড়াও চারতলা বিশিষ্ট ২০০ আসনের ছাত্রীনিবাস, পাঁচতলা বিশিষ্ট ২০ ইউনিটের শিক্ষক ডরমেটরি ও তিনতলা বিশিষ্ট ছয় ইউনিটের স্টাফ কোয়ার্টার, এক তলা বিশিষ্ট অধ্যক্ষের বাসভবন, নিজস্ব বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থাও থাকছে।
একাডেমিক ওয়ার্কশপ, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম সামচুন নাহার। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে এটাই প্রথম। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এ ইনস্টিটিউটের ছয়টি বহুতল ভবন, একটি একতলা ভবন, শহীদ মিনার, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ, ড্রেন, দুটি অত্যাধুনিক প্রবেশ গেট, বাউন্ডারি ওয়াল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। শহীদ মিনার, একাডেমিক ওয়ার্কশপ ও বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ভবন নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আর্কিটেকচার টেকনোলজি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা বুশরা আক্তার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রোববার প্রথম ক্লাস করেছেন। প্রথম ক্লাসের অনুভূতি ব্যক্ত করে বুশরা বলেন, ‘বরিশালের প্রথম মহিলা পলিটেকনিকের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত। মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার জীবনের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ফাতেমা বিনতে মরিয়ম বলেন, ‘এ ইনস্টিটিউটে প্রবেশে আমার মনে অন্য রকম এক আনন্দ উচ্ছ্বাস অনুভব হচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠানে, নতুন ক্লাসে, প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে উজ্জীবিত করেছে।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম সামচুন নাহার বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা প্রসারে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম বর্ষের দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিভাগ চালু করা হবে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষাগ্রহণ করে নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এতে যেমন শিক্ষার্থীরা নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবে, তেমনি অন্যকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
